০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্দোবস্ত পাওয়ার পঁচিশ বছরেও জমি দখলে যেতে পারেনি ভূমিহীন তিনটি পরিবার

এম জাফরান হারুন, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় পঁচিশ বছর আগে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নিলেও এখন পর্যন্ত সে জমি দখলে যেতে পারেনি ভূমিহীন ৩টি পরিবার। সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেওয়া জমির দখল বুঝে পাওয়ার জন্য অফিস অফিসে ছুটে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী ভূমিহীন পরিবারগুলি।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি মৌজায়। ভুক্তভোগী ভূমিহীন হারুন মৃধা জানান, আমি সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে ৩০৫৯ গলা/২০০০-২০০১ নং বন্দোবস্ত পেয়ে গলাচিপা সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ০১/০৭/২০০১ ইং তারিখে ৭৩৩০ নং রেজিস্ট্রি দলিল সম্পন্ন হয়। যার জেএল নং- ১৬৭ এবং খতিয়ান নং- ৬৯৫। সরকার বাহাদুর আমার নামে ১.৫০ একর জমি বন্দোবস্ত দেয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে জমির পরিমাপের পর সীমানা নির্ধারণ করে প্রত্যেকের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। এরপর স্থানীয় প্রভাবশালী শহিদুল খন্দকার, এমদাদ খন্দকার, সেরাজ খন্দকার ও রফেজ খন্দকার একত্রিত হয়ে সীমানা খুঁটি ও সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে। এই জমিতে আমার বাবা মন্নান মৃধাকে জীবন দিতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী ভূমিহীন বিশাগা রানী জানান, আমি সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে ৩০৬০ গলা/২০০০-২০০১ নং বন্দোবস্ত পেয়ে গলাচিপা সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ০১/০৭/২০০১ ইং তারিখে ৭৩২৪ নং রেজিস্ট্রি দলিল সম্পন্ন হয়। যার জেএল নং- ১৬৭ এবং খতিয়ান নং- ৭৩১। সরকার বাহাদুর আমার নামে ১.৫০ একর জমি বন্দোবস্ত দিলেও প্রভাবশালীদের কারণে আমি আমার জমিতে আজও যেতে পারি নাই। এই জমির জন্য আমার স্বামী গোপাল হাওলাদারকেও মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আমরা জমির কাছে গেলে প্রভাবশালীরা আমাদেরকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

ভূমিহীন বেলা রানী জানান, আমরা খুব অসহায়। ভূমি বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমি যেতে চাইলে তাদের আমাদের উপর হামলাসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে ৩০৬০ গলা/২০০০-২০০১ নং বন্দোবস্ত পেয়েছি। যার জেএল নং- ১৬৭ এবং খতিয়ান নং- ৭৩২, জমি ১.৫০ একর। আমি সরকার বাহাদুরের খাজনাদীও পরিশোধ করেছি। আমরা এই জমির জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু কোন সুরহা পাই নাই। এখন আমরা নিস্ব হয়ে গেছি। এই কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আমরা অতি দ্রুত আমাদের জমি দখলমুক্ত করে বুঝে পেতে এবং ভূমিদস্যুদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শহিদুল খন্দকার, এমদাদ খন্দকার ও সেরাজ খন্দকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত রফেজ খন্দকার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মৌজায় আমাদেরও জমি আছে। আমরা আমাদের জমিতে আছি। অন্য কোন জমিতে আমরা যাই নাই।

এবিষয়ে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মুন্সী বলেন, এ বিষয় নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে বসা হয়েছে। কিন্তু দু’পক্ষকে আমি মিলাতে না পারায় বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হয় নাই।

এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাছিম রেজা বলেন, ‘যাদের সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে এবং স্থানীয় তহসিলদার ও সার্ভেয়ার তাদের দখল বুঝিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে হয়তো ঝামেলা চলছে। তবে কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেব।’

এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, সরকারি খাস জমি শুধুমাত্র ভূমিহীন গরিবদের জন্য। সরকারিভাবে যারা বন্দোবস্ত পেয়েছেন তারাই ঐ জমির প্রকৃত মালিক।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

পটুয়াখালী-১ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হলেন এবি পার্টির ডাঃ ওয়াহাব মিনার

বন্দোবস্ত পাওয়ার পঁচিশ বছরেও জমি দখলে যেতে পারেনি ভূমিহীন তিনটি পরিবার

আপডেট সময়: ০৪:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

এম জাফরান হারুন, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় পঁচিশ বছর আগে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নিলেও এখন পর্যন্ত সে জমি দখলে যেতে পারেনি ভূমিহীন ৩টি পরিবার। সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেওয়া জমির দখল বুঝে পাওয়ার জন্য অফিস অফিসে ছুটে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী ভূমিহীন পরিবারগুলি।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি মৌজায়। ভুক্তভোগী ভূমিহীন হারুন মৃধা জানান, আমি সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে ৩০৫৯ গলা/২০০০-২০০১ নং বন্দোবস্ত পেয়ে গলাচিপা সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ০১/০৭/২০০১ ইং তারিখে ৭৩৩০ নং রেজিস্ট্রি দলিল সম্পন্ন হয়। যার জেএল নং- ১৬৭ এবং খতিয়ান নং- ৬৯৫। সরকার বাহাদুর আমার নামে ১.৫০ একর জমি বন্দোবস্ত দেয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে জমির পরিমাপের পর সীমানা নির্ধারণ করে প্রত্যেকের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। এরপর স্থানীয় প্রভাবশালী শহিদুল খন্দকার, এমদাদ খন্দকার, সেরাজ খন্দকার ও রফেজ খন্দকার একত্রিত হয়ে সীমানা খুঁটি ও সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে। এই জমিতে আমার বাবা মন্নান মৃধাকে জীবন দিতে হয়েছে।

ভুক্তভোগী ভূমিহীন বিশাগা রানী জানান, আমি সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে ৩০৬০ গলা/২০০০-২০০১ নং বন্দোবস্ত পেয়ে গলাচিপা সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ০১/০৭/২০০১ ইং তারিখে ৭৩২৪ নং রেজিস্ট্রি দলিল সম্পন্ন হয়। যার জেএল নং- ১৬৭ এবং খতিয়ান নং- ৭৩১। সরকার বাহাদুর আমার নামে ১.৫০ একর জমি বন্দোবস্ত দিলেও প্রভাবশালীদের কারণে আমি আমার জমিতে আজও যেতে পারি নাই। এই জমির জন্য আমার স্বামী গোপাল হাওলাদারকেও মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আমরা জমির কাছে গেলে প্রভাবশালীরা আমাদেরকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

ভূমিহীন বেলা রানী জানান, আমরা খুব অসহায়। ভূমি বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমি যেতে চাইলে তাদের আমাদের উপর হামলাসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে ৩০৬০ গলা/২০০০-২০০১ নং বন্দোবস্ত পেয়েছি। যার জেএল নং- ১৬৭ এবং খতিয়ান নং- ৭৩২, জমি ১.৫০ একর। আমি সরকার বাহাদুরের খাজনাদীও পরিশোধ করেছি। আমরা এই জমির জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু কোন সুরহা পাই নাই। এখন আমরা নিস্ব হয়ে গেছি। এই কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আমরা অতি দ্রুত আমাদের জমি দখলমুক্ত করে বুঝে পেতে এবং ভূমিদস্যুদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শহিদুল খন্দকার, এমদাদ খন্দকার ও সেরাজ খন্দকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত রফেজ খন্দকার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মৌজায় আমাদেরও জমি আছে। আমরা আমাদের জমিতে আছি। অন্য কোন জমিতে আমরা যাই নাই।

এবিষয়ে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মুন্সী বলেন, এ বিষয় নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে বসা হয়েছে। কিন্তু দু’পক্ষকে আমি মিলাতে না পারায় বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হয় নাই।

এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাছিম রেজা বলেন, ‘যাদের সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে এবং স্থানীয় তহসিলদার ও সার্ভেয়ার তাদের দখল বুঝিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে হয়তো ঝামেলা চলছে। তবে কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেব।’

এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, সরকারি খাস জমি শুধুমাত্র ভূমিহীন গরিবদের জন্য। সরকারিভাবে যারা বন্দোবস্ত পেয়েছেন তারাই ঐ জমির প্রকৃত মালিক।