১১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলিতে নিহত মাছ ব্যবসায়ী মিলনের স্ত্রী’র আকুতি; চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য

মো: রিয়াজুল ইসলামঃ পরিবার পরিজনের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন মিলন হাওলাদার(৩০)। কোনো রকমে সংসার চালিয়ে পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার ঝাটরা গ্রামে থাকা অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ বাবা-মাকে টাকা পয়সা দিতেন তিনি। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের এক সংঘর্ষে একটি বুলেট তার পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এখন আমাদের কী হবে? কে দেখবে আমাদের? যার স্বজন হারায়নি, সে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা বুঝবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই জানে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমি যে বড় অসহায় হয়ে গেলাম। অবুঝ ছোট্ট দু’টি ছেলে-মেয়ে এবং বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ী নিয়ে কীভাবে চলবো, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।’

সোমবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে গেলে কান্না জড়িত কন্ঠে বিলাপ করতে করতে কথাগুলি বলছিলেন সদ্য বিধবা গৃহবধূ শাহনাজ বেগম(২৬)। এই অবুঝ দুটি ছেলে-মেয়ে ও শ্বশুর শাশুড়ী নিয়ে যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তবানরা। এমনটাই প্রত্যাশা স্বামীহারা ওই গৃহবধূর।

গৃহবধূ শাহানাজ উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মদন হাওলাদার বাড়ির মিলন হাওলাদারের স্ত্রী। নিহত মিলন হাওলাদার ওই বাড়ির হোছেন হাওলাদারের ছেলে এবং পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। নিহত মিলনের আট বছর বয়সের দ্বীন ইসলাম নামে একটি পুত্র ও দেড় বছর বয়সের সুমাইয়া নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মৃত্যুকালে মিলন ৩ শতক ভিটে মাটি ছাড়া পরিবারের জন্য আর কিছুই রেখে যেতে পারেননি। বর্তমানে পঙ্গু শ্বশুর ও অসুস্থ শ্বাশুড়ি ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে উপজেলার কদমতলা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গৃহবধূ শাহনাজ। দুটি সন্তান নিয়ে যাতে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারেন এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চান তিনি। এরইমধ্যে অসহায় পরিবারের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মাহমুদ।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন মিলন হাওলাদার। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাত ১০টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Tag:
জনপ্রিয়

দশমিনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শান্তিপূর্ণভাবে দুই গ্রুপের পৃথক মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত

গুলিতে নিহত মাছ ব্যবসায়ী মিলনের স্ত্রী’র আকুতি; চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য

আপডেট সময়: ০৭:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০২৪

মো: রিয়াজুল ইসলামঃ পরিবার পরিজনের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন মিলন হাওলাদার(৩০)। কোনো রকমে সংসার চালিয়ে পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার ঝাটরা গ্রামে থাকা অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ বাবা-মাকে টাকা পয়সা দিতেন তিনি। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের এক সংঘর্ষে একটি বুলেট তার পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এখন আমাদের কী হবে? কে দেখবে আমাদের? যার স্বজন হারায়নি, সে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা বুঝবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই জানে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমি যে বড় অসহায় হয়ে গেলাম। অবুঝ ছোট্ট দু’টি ছেলে-মেয়ে এবং বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ী নিয়ে কীভাবে চলবো, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।’

সোমবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে গেলে কান্না জড়িত কন্ঠে বিলাপ করতে করতে কথাগুলি বলছিলেন সদ্য বিধবা গৃহবধূ শাহনাজ বেগম(২৬)। এই অবুঝ দুটি ছেলে-মেয়ে ও শ্বশুর শাশুড়ী নিয়ে যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তবানরা। এমনটাই প্রত্যাশা স্বামীহারা ওই গৃহবধূর।

গৃহবধূ শাহানাজ উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মদন হাওলাদার বাড়ির মিলন হাওলাদারের স্ত্রী। নিহত মিলন হাওলাদার ওই বাড়ির হোছেন হাওলাদারের ছেলে এবং পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। নিহত মিলনের আট বছর বয়সের দ্বীন ইসলাম নামে একটি পুত্র ও দেড় বছর বয়সের সুমাইয়া নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মৃত্যুকালে মিলন ৩ শতক ভিটে মাটি ছাড়া পরিবারের জন্য আর কিছুই রেখে যেতে পারেননি। বর্তমানে পঙ্গু শ্বশুর ও অসুস্থ শ্বাশুড়ি ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে উপজেলার কদমতলা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গৃহবধূ শাহনাজ। দুটি সন্তান নিয়ে যাতে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারেন এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চান তিনি। এরইমধ্যে অসহায় পরিবারের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মাহমুদ।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন মিলন হাওলাদার। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাত ১০টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।