ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি-শ্রদ্ধা ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীতে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দীপাবলি। এ উপলক্ষে পটুয়াখালী মহাশ্মশানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্মশানকালী পূজা ও দীপাবলি উৎসব। নানা রঙের আলোকসজ্জা, মোমবাতি ও প্রদীপের আলোয় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো মহাশ্মশান প্রাঙ্গণ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী মহাশ্মশানে এ পূজা ও দীপাবলি উৎসবের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মহাশ্মশানজুড়ে প্রজ্বালন করা হয় অসংখ্য মোমবাতি ও প্রদীপ। আলোকসজ্জায় সাজানো হয় শ্মশানের বিভিন্ন স্থান। এতে পুরো প্রাঙ্গণ ধারণ করে এক মনোমুগ্ধকর ও ভক্তিময় রূপ।
উৎসব উপলক্ষে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে মহাশ্মশানে ছুটে আসেন তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। প্রিয়জনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্বালন করেন তাঁরা। এ সময় অনেককে প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতিচারণ করতে দেখা যায়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি প্রিয়জন হারানোর বেদনা, ভালোবাসা ও স্মৃতির এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় মহাশ্মশানজুড়ে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, দীপাবলি আলোর উৎসব হিসেবে পরিচিত। অন্ধকার দূর করে আলোর মাধ্যমে শুভ ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য। শ্মশানকালী পূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে পটুয়াখালী মহাশ্মশানে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
শুধু মহাশ্মশানেই নয়, দীপাবলি উপলক্ষে পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। আলোকসজ্জা ও প্রদীপের আলোয় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ।
পটুয়াখালীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শ্মশানকালী পূজা ও দীপাবলি উৎসব প্রতিবছরই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও প্রয়াত স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে ফিরে আসে। এবারের আয়োজনেও ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি ফুটে উঠেছে পারিবারিক বন্ধন, স্মৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের চিরন্তন আবেগের অনন্য প্রকাশ।
সুনিল সরকার, পটুয়াখালী: 











