০১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

  • জালাল আহমেদ:
  • আপডেট সময়: ০৭:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬২৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণ ঘোষনা বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশের ন্যায় পটুয়াখালীতেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট ব্যানারে শত শত মাদ্রাসা শিক্ষকদের অংশগ্রহনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালনকালে বক্তব্য রাখেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি মাওঃ মোহাম্মদ আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রোকনুজ্জামান হিরণ, সহ-সভাপতি মাওঃ মো. জসিম উদ্দিন, মাওঃ মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মাওঃ মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, মাওঃ মো. জামাল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান ও প্রচার সম্পাদক মো.ফোরকান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার মানেন্নয়নে ও প্রসারের লক্ষ্যে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর অনুমোদনের জন্য ১৯৭৮ অধ্যাদেশ ১৭(২) ধারা জারি করেন। সে মোতাবেক ১৮৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে তৎকালিন সরকার রেজিঃ প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের ৫’শ টাকা ভাতা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে চার দলীয় ঐক্যজোট সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সরকারিভাবে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি চালু করেন। বিগত সরকার ২০১৩ সালে ২৬,০১৯টি রেজিঃকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করণ করেন অথচ ১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করন কিংবা এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহন করেন নাই। বিগত সরকারের জাতীয়করন কার্যক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ অন্তর্ভুক্ত হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহ অবহিলিত রয়েছে। ফলে হাজার হাজার শিক্ষক – কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষার্থীরাও অধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করনের ঘোষনা প্রদান করা হলেও আজও তার বাস্তবায়নে কার্যকর হয়নি। বক্তারা বর্তমান সরকারের কাছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করনের ঘোষনা দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবী করেন। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দাবী বাস্তবায়ন করা না হলে, আগামী ৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকল শিক্ষকদের নিয়ে মানববন্ধন, সমাবেশসহ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচী পালন করার হুশিয়ারী করেন বক্তারা। 

মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি মাওঃ মোহাম্মদ আল আমিনসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

Tag:

পটুয়াখালীর দশমিনায় নিজ ছেলেকে বিক্রি করে আইফোন কিনলেন বাবা! শিশুটিকে উদ্ধারে নেমেছে পুলিশ

পটুয়াখালীতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

আপডেট সময়: ০৭:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণ ঘোষনা বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশের ন্যায় পটুয়াখালীতেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট ব্যানারে শত শত মাদ্রাসা শিক্ষকদের অংশগ্রহনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালনকালে বক্তব্য রাখেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি মাওঃ মোহাম্মদ আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রোকনুজ্জামান হিরণ, সহ-সভাপতি মাওঃ মো. জসিম উদ্দিন, মাওঃ মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মাওঃ মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, মাওঃ মো. জামাল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান ও প্রচার সম্পাদক মো.ফোরকান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার মানেন্নয়নে ও প্রসারের লক্ষ্যে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর অনুমোদনের জন্য ১৯৭৮ অধ্যাদেশ ১৭(২) ধারা জারি করেন। সে মোতাবেক ১৮৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে তৎকালিন সরকার রেজিঃ প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের ৫’শ টাকা ভাতা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে চার দলীয় ঐক্যজোট সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সরকারিভাবে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি চালু করেন। বিগত সরকার ২০১৩ সালে ২৬,০১৯টি রেজিঃকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করণ করেন অথচ ১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করন কিংবা এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহন করেন নাই। বিগত সরকারের জাতীয়করন কার্যক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ অন্তর্ভুক্ত হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহ অবহিলিত রয়েছে। ফলে হাজার হাজার শিক্ষক – কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষার্থীরাও অধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করনের ঘোষনা প্রদান করা হলেও আজও তার বাস্তবায়নে কার্যকর হয়নি। বক্তারা বর্তমান সরকারের কাছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করনের ঘোষনা দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবী করেন। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দাবী বাস্তবায়ন করা না হলে, আগামী ৩ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকল শিক্ষকদের নিয়ে মানববন্ধন, সমাবেশসহ লাগাতার অবস্থান কর্মসূচী পালন করার হুশিয়ারী করেন বক্তারা। 

মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি মাওঃ মোহাম্মদ আল আমিনসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।