০১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে সপ্তাহ ব্যাপী তীব্র শীতে ও কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

  • জালাল আহমেদ:
  • আপডেট সময়: ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ উপকূলীয় পটুয়াখালীতে টানা এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক সমূহে দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারে এবং নদী পথে ৬০ মিটারের নিচে নেমে আসায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। 

শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতায় কাবু মানুষজনকে শীত নিবারনের জন্য খড়কুটা ও পরিত্যক্ত কাগজপত্র জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির মত ঘন কুয়াশার কারনে সড়কগুলো ভিজে বিভিন্ন স্থান পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে। ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। 

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবা সুখী জানান, “পটুয়াখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।”

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বেশী ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া দিনমজুর শ্রমিক ও যানবাহন চালকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই কাজে যেতে না পেরে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। এ শীতের কারনে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

পুরান বাজারের দিনমজুর ফোরকান বলেন, “কয়েকদিন ধরে শীত ও কুয়াশার কারনে কাজে যেতে পারছি না। আমার মত অনেকেই কাজ করতে পারছে না।” লাউকাঠির বই বিক্রেতা উত্তম কুমার জানান, “প্রচন্ড শীতের কারনে ঠান্ডাজনিত সর্দি, কাশি ও বাত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে।” লোহালিয়া ইউনিয়নের পাজাখালী গ্রামের কবির মৃধা বলেন, “শীতের কারনে ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বিশী বিপদে পড়েছে চাষীরা। শীত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।”

নদীর তীড়ের স্বনির্ভর রোড এর পাশে বস্তির মানুষ তীব্র শীতে কাতর বেশী। এ বছর সরকারি বা বেসরকারিভাবে শীতার্ত মানুষের পাশে এখন পর্যন্ত কম্বল বা শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসছে না বলে বস্তির শীতার্ত মানুষেরা অভিযোগ করেছেন।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

পাথরঘাটায় চাঞ্চ*ল্যকর সুজন হ*ত্যা মামলার চার অভিযুক্ত র‍্যাব এর অভিযানে গ্রে*ফতার

পটুয়াখালীতে সপ্তাহ ব্যাপী তীব্র শীতে ও কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট সময়: ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ উপকূলীয় পটুয়াখালীতে টানা এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক সমূহে দৃষ্টিসীমা ১০০ মিটারে এবং নদী পথে ৬০ মিটারের নিচে নেমে আসায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। 

শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতায় কাবু মানুষজনকে শীত নিবারনের জন্য খড়কুটা ও পরিত্যক্ত কাগজপত্র জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির মত ঘন কুয়াশার কারনে সড়কগুলো ভিজে বিভিন্ন স্থান পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে। ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। 

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবা সুখী জানান, “পটুয়াখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।”

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বেশী ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া দিনমজুর শ্রমিক ও যানবাহন চালকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই কাজে যেতে না পেরে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। এ শীতের কারনে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

পুরান বাজারের দিনমজুর ফোরকান বলেন, “কয়েকদিন ধরে শীত ও কুয়াশার কারনে কাজে যেতে পারছি না। আমার মত অনেকেই কাজ করতে পারছে না।” লাউকাঠির বই বিক্রেতা উত্তম কুমার জানান, “প্রচন্ড শীতের কারনে ঠান্ডাজনিত সর্দি, কাশি ও বাত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে।” লোহালিয়া ইউনিয়নের পাজাখালী গ্রামের কবির মৃধা বলেন, “শীতের কারনে ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বিশী বিপদে পড়েছে চাষীরা। শীত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।”

নদীর তীড়ের স্বনির্ভর রোড এর পাশে বস্তির মানুষ তীব্র শীতে কাতর বেশী। এ বছর সরকারি বা বেসরকারিভাবে শীতার্ত মানুষের পাশে এখন পর্যন্ত কম্বল বা শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসছে না বলে বস্তির শীতার্ত মানুষেরা অভিযোগ করেছেন।