পটুয়াখালী পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী ভারানী খাল দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কচুরিপানা ও ভাসমান বর্জ্যে ভরে গেছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশদূষণ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ সবুজবাগ, আরামবাগ ও কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় নৌযান চলাচল ও এলাকার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খালটি এখন তার আগের রূপ হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় খালের বিভিন্ন অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে।
পৌরসভার ২ নম্বর বাঁধ এলাকা থেকে শুরু হয়ে টাউন কালিকাপুর, বহালগাছিয়া ও সিও অফিস এলাকা অতিক্রম করে হেতালিয়া বাঁধঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত এই জলাধারটি স্থানীয় পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
খালের বিভিন্ন অংশে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে থাকায় এবং কোথাও কোথাও পানি স্থির হয়ে থাকায় মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু নিয়ে জনমনে উদ্বেগের মধ্যে খালসংলগ্ন এলাকায় মশার উপদ্রব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মশার উপদ্রবে স্বাভাবিকভাবে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। খালটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে পরিবেশের উন্নতি হবে এবং মশার উপদ্রব কমাতে সহায়ক হতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই কেবল কচুরিপানা অপসারণ নয়, খালটির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবির মধ্যে রয়েছে—খাল থেকে কচুরিপানা ও ভাসমান বর্জ্য অপসারণ, নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ের সুরক্ষা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ ও পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পটুয়াখালী পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভারানী খালের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে খালটির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগও কমানো সম্ভব হবে।
পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী এই খাল সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারানী খাল ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক রূপ ও পরিবেশগত গুরুত্ব।
মু. হেলাল আহম্মেদ রিপন, পটুয়াখালী: 











