০৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি নিয়ে মুখোমুখি দুই পক্ষ, মানববন্ধনে উত্তেজনা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানালেও অন্য পক্ষ তা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ‘দুমকি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক। চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মী, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনকে মানবিক ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁর বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশ এ দাবির বিরোধিতা করে বদলি আদেশ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়াসিমের নেতৃত্বে তাঁরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের মতে, বদলি আদেশ কার্যকর হলে এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

বিরোধিতাকারীদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকা অবস্থায় বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন আয়োজনের ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। তাঁদের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মীদেরও কর্মস্থল থেকে এনে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ সময় মানববন্ধনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধিতাকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি কর্মকর্তার বদলি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানায়, অন্য পক্ষ তা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ শাহ আলম, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জসিম, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাজী ফাবিয়া জাহানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে, বদলি আদেশ নিয়ে দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তাও প্রকাশ করা হবে।

Tag:
জনপ্রিয়

কওমি শিক্ষার উন্নয়ন ও মেধাবী শিক্ষার্থী গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী

দুমকিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি নিয়ে মুখোমুখি দুই পক্ষ, মানববন্ধনে উত্তেজনা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৫:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানালেও অন্য পক্ষ তা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ‘দুমকি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক। চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মী, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনকে মানবিক ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁর বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশ এ দাবির বিরোধিতা করে বদলি আদেশ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়াসিমের নেতৃত্বে তাঁরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের মতে, বদলি আদেশ কার্যকর হলে এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

বিরোধিতাকারীদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকা অবস্থায় বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন আয়োজনের ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। তাঁদের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মীদেরও কর্মস্থল থেকে এনে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ সময় মানববন্ধনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধিতাকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি কর্মকর্তার বদলি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানায়, অন্য পক্ষ তা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ শাহ আলম, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জসিম, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাজী ফাবিয়া জাহানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে, বদলি আদেশ নিয়ে দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তাও প্রকাশ করা হবে।