০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকের কাঠি বাজার অপেক্ষা, রং-তুলির আঁচড়ে রূপ নিচ্ছেন দেবী দুর্গা: মির্জাগঞ্জের ১৯ মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আকাশজুড়ে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস আর প্রকৃতিজুড়ে শরতের অপরূপ সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। মহালয়ার পুণ্যলগ্ন পেরিয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলাজুড়েও বইতে শুরু করেছে উৎসবের হাওয়া। আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপরই ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো। তাই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন-রাত পার করছেন প্রতিমাশিল্পী, আয়োজক ও কারুশিল্পীরা।

উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপে মণ্ডপে সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির কর্মযজ্ঞ। খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামোয় ধীরে ধীরে ফুটে ওঠা দেবী দুর্গার প্রতিমায় এখন পড়ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা, মহিষাসুরসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা ধারণ করছে পূর্ণাঙ্গ রূপ। কোথাও চলছে রঙের কাজ, কোথাও আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সাজানোর প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে মির্জাগঞ্জে এখন শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

উপজেলা পূজা উদযাপন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের নানা আয়োজন শেষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

এ বছর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আয়োজন চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাতটি মণ্ডপ রয়েছে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নে। এ ছাড়া দেউলী সুবিদখালী ও মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে চারটি করে, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে দুটি এবং মাধবখালী ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে একটি করে মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রধান মণ্ডপ সুবিদখালী বাজার সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির কমপ্লেক্স। সেখানে প্রখ্যাত প্রতিমাশিল্পী শ্রী প্রসীত মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। বাঁশ-কাঠের কাঠামো নির্মাণ ও মাটির কাজ শেষ করে এখন চলছে প্রতিমায় রং প্রয়োগের সূক্ষ্ম ও নান্দনিক কাজ।

দেবী দুর্গার পাশাপাশি মহিষাসুর, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য। শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো ক্রমেই হয়ে উঠছে জীবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন। প্রতিমার এই রূপ দেখতে প্রতিদিন মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। আয়োজক কমিটির প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিমার সব কাজ সম্পন্ন হবে।

শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে চলছে মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি। পূজার দিনগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মণ্ডপগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বাবুল কর্মকার কালু বলেন, “একটি সুন্দর, আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ উৎসব উপহার দিতে প্রতিটি পূজা কমিটির সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে, সে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ, উৎসবমুখর ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হতে পারে, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও ধর্মীয় সৌহার্দ্যের মাধ্যমে মির্জাগঞ্জে একটি দৃষ্টিনন্দন ও সফল উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, শিউলির সুবাস আর রং-তুলিতে সেজে ওঠা দেবী দুর্গার প্রতিমা—সব মিলিয়ে মির্জাগঞ্জে এখন অপেক্ষা কেবল ঢাকের কাঠি বাজার। ১৯টি পূজামণ্ডপে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও প্রত্যাশা। ধর্মীয় আচার, উৎসবের উচ্ছ্বাস এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব মির্জাগঞ্জে হয়ে উঠবে আনন্দময় ও স্মরণীয়—এমন প্রত্যাশাই সবার।

Tag:
জনপ্রিয়

সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও বিনোদনের জন্য ৬৪ জেলায় নির্মাণ করা হবে তথ্য কমপ্লেক্স: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকের কাঠি বাজার অপেক্ষা, রং-তুলির আঁচড়ে রূপ নিচ্ছেন দেবী দুর্গা: মির্জাগঞ্জের ১৯ মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আপডেট সময়: ০২:১০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আকাশজুড়ে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস আর প্রকৃতিজুড়ে শরতের অপরূপ সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। মহালয়ার পুণ্যলগ্ন পেরিয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলাজুড়েও বইতে শুরু করেছে উৎসবের হাওয়া। আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপরই ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো। তাই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন-রাত পার করছেন প্রতিমাশিল্পী, আয়োজক ও কারুশিল্পীরা।

উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপে মণ্ডপে সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির কর্মযজ্ঞ। খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামোয় ধীরে ধীরে ফুটে ওঠা দেবী দুর্গার প্রতিমায় এখন পড়ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দেবী দুর্গা, মহিষাসুরসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা ধারণ করছে পূর্ণাঙ্গ রূপ। কোথাও চলছে রঙের কাজ, কোথাও আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সাজানোর প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে মির্জাগঞ্জে এখন শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

উপজেলা পূজা উদযাপন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের নানা আয়োজন শেষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

এ বছর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আয়োজন চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাতটি মণ্ডপ রয়েছে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নে। এ ছাড়া দেউলী সুবিদখালী ও মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে চারটি করে, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে দুটি এবং মাধবখালী ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে একটি করে মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রধান মণ্ডপ সুবিদখালী বাজার সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির কমপ্লেক্স। সেখানে প্রখ্যাত প্রতিমাশিল্পী শ্রী প্রসীত মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। বাঁশ-কাঠের কাঠামো নির্মাণ ও মাটির কাজ শেষ করে এখন চলছে প্রতিমায় রং প্রয়োগের সূক্ষ্ম ও নান্দনিক কাজ।

দেবী দুর্গার পাশাপাশি মহিষাসুর, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নানা শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য। শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো ক্রমেই হয়ে উঠছে জীবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন। প্রতিমার এই রূপ দেখতে প্রতিদিন মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। আয়োজক কমিটির প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিমার সব কাজ সম্পন্ন হবে।

শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে চলছে মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি। পূজার দিনগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মণ্ডপগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বাবুল কর্মকার কালু বলেন, “একটি সুন্দর, আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ উৎসব উপহার দিতে প্রতিটি পূজা কমিটির সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে, সে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ, উৎসবমুখর ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হতে পারে, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও ধর্মীয় সৌহার্দ্যের মাধ্যমে মির্জাগঞ্জে একটি দৃষ্টিনন্দন ও সফল উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, শিউলির সুবাস আর রং-তুলিতে সেজে ওঠা দেবী দুর্গার প্রতিমা—সব মিলিয়ে মির্জাগঞ্জে এখন অপেক্ষা কেবল ঢাকের কাঠি বাজার। ১৯টি পূজামণ্ডপে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও প্রত্যাশা। ধর্মীয় আচার, উৎসবের উচ্ছ্বাস এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব মির্জাগঞ্জে হয়ে উঠবে আনন্দময় ও স্মরণীয়—এমন প্রত্যাশাই সবার।