০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিককে হাতুড়ি পে/টা, গ্রে/ফতার-২

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর প্রতিনিধি সাংবাদিক কে. এম. বাচ্চুর ওপর নৃশংসভাবে হাতুড়ি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কে. এম. বাচ্চুর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথা ও দুই পায়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঘটনার পর সোমবার মহিপুর থানায় বাচ্চুর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

আহত সাংবাদিকের পরিবারের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। এরই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি কে. এম. বাচ্চু পরিবেশ, পর্যটন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, “বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়েছি। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় আমাদের পক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, “সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

Tag:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিককে হাতুড়ি পে/টা, গ্রে/ফতার-২

আপডেট সময়: ০৬:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর প্রতিনিধি সাংবাদিক কে. এম. বাচ্চুর ওপর নৃশংসভাবে হাতুড়ি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কে. এম. বাচ্চুর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথা ও দুই পায়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঘটনার পর সোমবার মহিপুর থানায় বাচ্চুর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

আহত সাংবাদিকের পরিবারের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। এরই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি কে. এম. বাচ্চু পরিবেশ, পর্যটন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, “বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়েছি। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় আমাদের পক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, “সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”