১১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খরস্রোতা পায়রা নদীর কড়াল থাবায় পটুয়াখালী সদরের ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম প্রায় বিলীন হওয়ার পথে

  • জালাল আহমেদ:
  • আপডেট সময়: ১০:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৪২২ বার পড়া হয়েছে

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর অন্যতম ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ফুলতলা, ভুতামমিয়া, তুষখালী ও ভাজনাসহ চারটি গ্রাম খরস্রোতা পায়রা নদীর গর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে সহাস্রাধিক পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন ছোট-বড় শহরে গিয়ে দিনমজুর, রিক্সা, ঠেলাগাড়িসহ কায়িক পরিশ্রম করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে ছোটবিঘাই ইউনয়ন জেলে ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি ও ইউনিয়ন শাখা জাতীয়তাবাদী মৎস্যদলের সভাপতি মো. জয়নাল মৃধা জানিয়েছেন। 

তিনি (জয়নাল মৃধা) জানান, “বিগত সরকারের সময় স্থানীয় এমপি রুহুল আমিন হাওলাদার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন কিন্তু দীর্ঘদিনে কাজের কাজ কিছুই হয় নাই।” 

ছোটবিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মো. আলমগীর হোসেন জানান, “ভাঙ্গনের খবর পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি। তিনি ( নির্বাহী প্রকৌশলী) বলেছেন খুব শীঘ্রই ভাঙ্গন এলাকায় পাইলিং এর ব্যবস্থা করা হবে।”

এ ব্যাপার নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে ফোন দিলে রিং হলেও রিসিভ করেননি। দ্বিতীয়বার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

ভুক্তভোগীসহ উক্ত চার গ্রামে ভাঙ্গনের শঙ্কায় যারা  আছেন, তাদের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষগণের কাছে আকুতি জানান।  

উল্লেখ্য, কুড়ালিয়া খাল পায়রা নদী ত্রিভুজাকারে বয়ে গেছে ছোটবিঘাই ইউনিয়নের পূর্ব এবং পঞ্চিম পাশ দিয়ে। একসময় পর্তুগীজদের অভয়ারন্য ছিল ছোটবিঘাই ইউনিয়নের পায়রা নদী। অন্যদিকে যারা পঁট এঁকে জীবন যাপন করত কিংবা নদীতে মাছ ধরাই ছিল যাদের একমাত্র পেশা; তারাও মূলত: এ অঞ্চলটিতেই বসবাস করত। কালের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে জনপদ। অনতিদূরে পটুয়াখালী নগরের পত্তনের কারনে প্রশাসনিক কাঠামোর বৃত্তের ভিতরেই একটি ছোট্ট পরিসরের সভ্যতা গড়ে ওঠে ছোটবিঘাই ইউনিয়ন।

Tag:
জনপ্রিয়

দক্ষিণ বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল “সাউথ বিডি নিউজ ২৪” এর জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ

খরস্রোতা পায়রা নদীর কড়াল থাবায় পটুয়াখালী সদরের ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম প্রায় বিলীন হওয়ার পথে

আপডেট সময়: ১০:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর অন্যতম ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ফুলতলা, ভুতামমিয়া, তুষখালী ও ভাজনাসহ চারটি গ্রাম খরস্রোতা পায়রা নদীর গর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে সহাস্রাধিক পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে পটুয়াখালী, বরিশাল ও ঢাকাসহ বিভিন্ন ছোট-বড় শহরে গিয়ে দিনমজুর, রিক্সা, ঠেলাগাড়িসহ কায়িক পরিশ্রম করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে ছোটবিঘাই ইউনয়ন জেলে ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি ও ইউনিয়ন শাখা জাতীয়তাবাদী মৎস্যদলের সভাপতি মো. জয়নাল মৃধা জানিয়েছেন। 

তিনি (জয়নাল মৃধা) জানান, “বিগত সরকারের সময় স্থানীয় এমপি রুহুল আমিন হাওলাদার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন কিন্তু দীর্ঘদিনে কাজের কাজ কিছুই হয় নাই।” 

ছোটবিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মো. আলমগীর হোসেন জানান, “ভাঙ্গনের খবর পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি। তিনি ( নির্বাহী প্রকৌশলী) বলেছেন খুব শীঘ্রই ভাঙ্গন এলাকায় পাইলিং এর ব্যবস্থা করা হবে।”

এ ব্যাপার নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে ফোন দিলে রিং হলেও রিসিভ করেননি। দ্বিতীয়বার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

ভুক্তভোগীসহ উক্ত চার গ্রামে ভাঙ্গনের শঙ্কায় যারা  আছেন, তাদের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষগণের কাছে আকুতি জানান।  

উল্লেখ্য, কুড়ালিয়া খাল পায়রা নদী ত্রিভুজাকারে বয়ে গেছে ছোটবিঘাই ইউনিয়নের পূর্ব এবং পঞ্চিম পাশ দিয়ে। একসময় পর্তুগীজদের অভয়ারন্য ছিল ছোটবিঘাই ইউনিয়নের পায়রা নদী। অন্যদিকে যারা পঁট এঁকে জীবন যাপন করত কিংবা নদীতে মাছ ধরাই ছিল যাদের একমাত্র পেশা; তারাও মূলত: এ অঞ্চলটিতেই বসবাস করত। কালের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে জনপদ। অনতিদূরে পটুয়াখালী নগরের পত্তনের কারনে প্রশাসনিক কাঠামোর বৃত্তের ভিতরেই একটি ছোট্ট পরিসরের সভ্যতা গড়ে ওঠে ছোটবিঘাই ইউনিয়ন।