০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মায়ের নিরাপদ প্রসবে ঈদেও পাশে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, পটুয়াখালীতে ২২টি স্বাভাবিক প্রসব

ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রেখে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এ সময় জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২২টি স্বাভাবিক প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় পরামর্শ, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা, নিরাপদ প্রসব সেবা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসাও প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন ছোট বাইশদিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, “ঈদের দিনই আমার স্ত্রীর স্বাভাবিকভাবে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। ঈদের ছুটিতেও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা চালু থাকায় আমরা দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছি। এই সেবা না থাকলে আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো।”

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঈদের দিনও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার ও সেবা চালু থাকায় আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছি। না থাকলে বড় বিপদে পড়তে হতো। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. শামসুজ্জামান বলেন, “ঈদের ছুটিতেও জেলার ৮টি উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি আমরা সার্বিকভাবে তদারকি করেছি। বিশেষ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

জেলার আরেক সহকারী পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসাইন বলেন, দুর্গম এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বিবেচনা করেই ঈদের ছুটির মধ্যেও আমরা জরুরি সেবা চালু রেখেছি। যাতে মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে কেউ বঞ্চিত না হন। আমাদের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন, এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতেও জেলার সব উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু ছিল। মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি), উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সমন্বিতভাবে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং সুস্থ ও সচেতন পরিবার গড়ে তোলা।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবার পরিকল্পনা শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মা ও শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক কার্যক্রম। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও জোরদারভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

এদিকে ঈদের ছুটির মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, ছুটির সময়েও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত থাকায় অনেক মা ও শিশু সময়মতো চিকিৎসা পেয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...
জনপ্রিয়

মায়ের নিরাপদ প্রসবে ঈদেও পাশে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, পটুয়াখালীতে ২২টি স্বাভাবিক প্রসব

মায়ের নিরাপদ প্রসবে ঈদেও পাশে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, পটুয়াখালীতে ২২টি স্বাভাবিক প্রসব

আপডেট সময়: ১০:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রেখে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এ সময় জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২২টি স্বাভাবিক প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় পরামর্শ, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর সেবা, নিরাপদ প্রসব সেবা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসাও প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন ছোট বাইশদিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন, “ঈদের দিনই আমার স্ত্রীর স্বাভাবিকভাবে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। ঈদের ছুটিতেও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা চালু থাকায় আমরা দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছি। এই সেবা না থাকলে আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো।”

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঈদের দিনও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার ও সেবা চালু থাকায় আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছি। না থাকলে বড় বিপদে পড়তে হতো। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. শামসুজ্জামান বলেন, “ঈদের ছুটিতেও জেলার ৮টি উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি আমরা সার্বিকভাবে তদারকি করেছি। বিশেষ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে তাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

জেলার আরেক সহকারী পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসাইন বলেন, দুর্গম এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বিবেচনা করেই ঈদের ছুটির মধ্যেও আমরা জরুরি সেবা চালু রেখেছি। যাতে মা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে কেউ বঞ্চিত না হন। আমাদের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন, এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতেও জেলার সব উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু ছিল। মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি), উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সমন্বিতভাবে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং সুস্থ ও সচেতন পরিবার গড়ে তোলা।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবার পরিকল্পনা শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মা ও শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক কার্যক্রম। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও জোরদারভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

এদিকে ঈদের ছুটির মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, ছুটির সময়েও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত থাকায় অনেক মা ও শিশু সময়মতো চিকিৎসা পেয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।