০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বাসের নামে বিষফোঁড়া; বরগুনায় ভাতিজার ঘরে রাত্রি যাপন করে সর্বস্ব লুটে নিলেন চাচা

  • রিপন মালী, বরগুনাঃ
  • আপডেট সময়: ০৯:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

বরগুনায় পরম আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। দূর সম্পর্কের এক চাচা ভাতিজার বাড়িতে রাত্রি যাপন করতে এসে মধ্য রাতে এক ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বরগুনা সদর উপজেলার ২নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসা তলী (ভূত মারা) গ্রামের মো. নান্টু মিয়ার বাড়িতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আতাহার হাং। তিনি ৫নং আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের ছয়জুদ্দিন হাং-এর ছেলে।

ভুক্তভোগী নান্টু মিয়া জানান, মঙ্গলবার ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তার দূর সম্পর্কের চাচা আতাহার হাং অতর্কিতভাবে তার বাড়িতে আসেন। সৌজন্যের খাতিরে তাকে বসতে দেওয়া হয় এবং পরিবারের সবাই মিলে একসাথে ইফতার করেন। ইফতার শেষে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় নান্টু মিয়া তাকে রাতে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি সানন্দে রাজি হন।

নান্টু মিয়া আরও জানান, সারারাত সব ঠিকঠাক থাকলেও ভোর রাতে সেহেরি খাওয়ার সময় পরিবারের সকলে থাকলেও নেই মেহমান (চাচা)। এতে তাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শোকেসের কাছে গিয়ে দেখা যায়, শোকেসের তালা ভাঙা এবং ভেতরের কাপড়চোপড় ও আসবাবপত্র তছনছ করা। ভুক্তভোগীর দাবি, শোকেসে থাকা একটি পার্স ব্যাগ থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া কানের ঝুমকাসহ নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে গেছেন।

মর্মাহত নান্টু মিয়া বলেন, “চাচাকে বিশ্বাস করে থাকতে দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি যে আমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এমন কাজ করবেন তা স্বপ্নেও ভাবিনি। ভোরে উঠে তাকে না পেয়ে দেখি আমার তিল তিল করে জমানো সব শেষ।”

এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে নান্টু মিয়া বলেন, তিনি বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সাথে আলোচনা করছেন এবং খুব দ্রুতই থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

বিশ্বাসের নামে বিষফোঁড়া; বরগুনায় ভাতিজার ঘরে রাত্রি যাপন করে সর্বস্ব লুটে নিলেন চাচা

বিশ্বাসের নামে বিষফোঁড়া; বরগুনায় ভাতিজার ঘরে রাত্রি যাপন করে সর্বস্ব লুটে নিলেন চাচা

আপডেট সময়: ০৯:০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরগুনায় পরম আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। দূর সম্পর্কের এক চাচা ভাতিজার বাড়িতে রাত্রি যাপন করতে এসে মধ্য রাতে এক ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বরগুনা সদর উপজেলার ২নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসা তলী (ভূত মারা) গ্রামের মো. নান্টু মিয়ার বাড়িতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আতাহার হাং। তিনি ৫নং আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের ছয়জুদ্দিন হাং-এর ছেলে।

ভুক্তভোগী নান্টু মিয়া জানান, মঙ্গলবার ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তার দূর সম্পর্কের চাচা আতাহার হাং অতর্কিতভাবে তার বাড়িতে আসেন। সৌজন্যের খাতিরে তাকে বসতে দেওয়া হয় এবং পরিবারের সবাই মিলে একসাথে ইফতার করেন। ইফতার শেষে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় নান্টু মিয়া তাকে রাতে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি সানন্দে রাজি হন।

নান্টু মিয়া আরও জানান, সারারাত সব ঠিকঠাক থাকলেও ভোর রাতে সেহেরি খাওয়ার সময় পরিবারের সকলে থাকলেও নেই মেহমান (চাচা)। এতে তাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শোকেসের কাছে গিয়ে দেখা যায়, শোকেসের তালা ভাঙা এবং ভেতরের কাপড়চোপড় ও আসবাবপত্র তছনছ করা। ভুক্তভোগীর দাবি, শোকেসে থাকা একটি পার্স ব্যাগ থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া কানের ঝুমকাসহ নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে গেছেন।

মর্মাহত নান্টু মিয়া বলেন, “চাচাকে বিশ্বাস করে থাকতে দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি যে আমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এমন কাজ করবেন তা স্বপ্নেও ভাবিনি। ভোরে উঠে তাকে না পেয়ে দেখি আমার তিল তিল করে জমানো সব শেষ।”

এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে নান্টু মিয়া বলেন, তিনি বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সাথে আলোচনা করছেন এবং খুব দ্রুতই থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।