পবিত্র মাহে রামাদান অতি সন্নিকটে। চারিদিকে যেন রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুবাসে ভরে উঠেছে আকাশ–বাতাস। মুমিন হৃদয়গুলো দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষার পর আবারও সেই মাহে বরাকাতের আগমনী ধ্বনি শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠছে। অন্তর জুড়ে জেগে উঠছে তাওবা, ইস্তিগফার, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব তৃষ্ণা।
রমাদান শুধু একটি মাস নয়; এটি আল্লাহ্ তা‘আলার বিশেষ রহমতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার সময়। এই মাসেই তো জান্নাতের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। তাই প্রকৃত মুমিনরা এই মাসকে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তারা নিজেদের আমল, আখলাক, ইখলাস ও তাকওয়াকে পরিশুদ্ধ করার দৃঢ় সংকল্পে উদ্বুদ্ধ হয়।
এমনই এক আত্মিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের সর্বত্র মসজিদগুলোতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে খতমে তারাবীর সালাতের জন্য যোগ্য, দক্ষ ও সুকণ্ঠ হাফেজ সাহেব নিয়োগের প্রক্রিয়া। কোথাও এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে, কোথাও আবার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মসজিদ কমিটি, মুতাওয়াল্লী ও মুসল্লিগণ সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করেছেন যেন এমন একজন হাফেজ নিযুক্ত হন, যিনি সহীহ তিলাওয়াত, সুন্দর কিরাত ও খুশু-খুযূসহ কুরআন তেলাওয়াত করতে সক্ষম হন। কারণ খতমে তারাবীহ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি কুরআনের সাথে উম্মাহর সম্পর্ককে নবায়ন করার এক অনন্য সুযোগ।
রমাদানের রাতগুলোতে যখন মসজিদে মসজিদে কুরআনের সুমধুর তিলাওয়াত ধ্বনিত হয়, তখন পুরো সমাজ যেন এক বিশেষ নূরানী পরিবেশে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ছোট-বড়, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত—সব শ্রেণির মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র সামনে নত হয়। এই ঐক্য, এই ভ্রাতৃত্ব ও এই আত্মিক মিলনই ইসলামের সৌন্দর্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
হাফেজ সাহেবদের নির্বাচনেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে আমানতদারী, চরিত্রের পবিত্রতা ও সুন্নাহর অনুসরণ। কারণ তারা শুধু ইমাম নন; বরং মুসল্লিদের জন্য একটি অনুকরণীয় আদর্শ। তাদের কণ্ঠে তিলাওয়াতের মাধ্যমে বহু মানুষের হৃদয়ে কুরআনের ভালোবাসা জাগ্রত হয়, বহু তরুণ নতুন করে হিফজে কুরআনের স্বপ্ন দেখে এবং বহু গাফেল হৃদয় আল্লাহ্র দিকে ফিরে আসে।
এদিকে মসজিদগুলোতে পরিচ্ছন্নতা, পানির ব্যবস্থা, ইফতারি পরিবেশন ও মুসল্লিদের সেবার নানা প্রস্তুতিও জোরেশোরে চলছে। কোথাও স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে, কোথাও দান-সদকার তহবিল গঠন করা হয়েছে, আবার কোথাও দরিদ্র রোজাদারদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে যেন রমাদানের প্রতিটি মুহূর্ত সমাজকল্যাণ ও মানবসেবার মাধ্যমে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
নিশ্চয়ই এই মহিমান্বিত মাস আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, দুনিয়া পরীক্ষার স্থান এবং আখিরাতই প্রকৃত গন্তব্য। তাই এখনই সময় আত্মসমালোচনা করার, পাপ থেকে ফিরে আসার, কুরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করার এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর।
জালাল আহমেদ: 











