০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“১৩ তারিখ সূর্য উঠবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে” — ডা. শফিকুর রহমান

পটুয়াখালীর বাউফলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। চারপাশের রাস্তা-ঘাট ও মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে জনতার ঢলে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, মজলুম জননেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত বছরগুলোতে রাজনৈতিক দল ও শাসকগোষ্ঠী আমাদেরকে বারবার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয় বাণিজ্য ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে। আমরা সেই বাংলাদেশ বদলে দিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৩ তারিখ সূর্য উদিত হবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে।”

তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিলে আমাদের দুই হাতের দশ আঙুল থাকবে পরিচ্ছন্ন। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা বাণিজ্য আমরা ঘৃণা করি। কেউ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কারো ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন,
“ব্যাংকের টাকা লুটপাট করতে দেওয়া হবে না, শেয়ারবাজার ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। বিচার হবে নির্যাতনের ভিত্তিতে—কেউ মামু-খালু দেখিয়ে পার পাবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অন্যায় করলেও তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”

সমাজ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন,
“একটি ভালো সমাজ গড়তে তিনটি জিনিস অপরিহার্য—উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। আমাদের সামনে দুটি নির্বাচন—একটি গণভোট, আরেকটি সাধারণ নির্বাচন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামি। হ্যাঁ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, না বিজয়ী হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।”

তিনি অতীত ও বর্তমানের রাজনীতি তুলে ধরে বলেন, “যারা অতীতে সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। যারা জনগণকে সম্মান দিয়েছে এবং যোগ্যতা দিয়ে সেই সম্মান ধরে রেখেছে, মানুষ তাদেরকেই বেছে নেবে। জামায়াত দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য, দখলদারিত্ব, ব্যাংক ডাকাতি ও ঋণখেলাপির রাজনীতি করে না।”

১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা বলেন, “আপনারা যদি আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দাবি তুলতে হবে না—আমাদের দায়িত্ব হবে উন্নয়ন আপনাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। আমার বাড়ি সারা বাংলাদেশে। যেখানে যা প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছে যাওয়া আমার দায়িত্ব। শহীদরা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন, সেই দায়িত্ব আমরা কাঁধে তুলে নিয়েছি।”

বক্তব্য শেষে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনের ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাতে প্রতীকীভাবে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে পটুয়াখালীর চারটি আসনের জোট প্রার্থীদের প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদেক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, পটুয়াখালী জেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান, বরিশাল মহানগর আমির জহির উদ্দিন মো. বাবর, পটুয়াখালী–১ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, পটুয়াখালী–৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম, পটুয়াখালী–৪ আসনের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা বিপুল জনসমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

ভুরিয়া ও কমলাপুর ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত

“১৩ তারিখ সূর্য উঠবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে” — ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময়: ০১:২২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। চারপাশের রাস্তা-ঘাট ও মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে জনতার ঢলে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, মজলুম জননেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত বছরগুলোতে রাজনৈতিক দল ও শাসকগোষ্ঠী আমাদেরকে বারবার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয় বাণিজ্য ও বিচারহীনতা উপহার দিয়েছে। আমরা সেই বাংলাদেশ বদলে দিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৩ তারিখ সূর্য উদিত হবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে।”

তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিলে আমাদের দুই হাতের দশ আঙুল থাকবে পরিচ্ছন্ন। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করি না, কাউকে করতেও দেব না। মামলা বাণিজ্য আমরা ঘৃণা করি। কেউ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কারো ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন,
“ব্যাংকের টাকা লুটপাট করতে দেওয়া হবে না, শেয়ারবাজার ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। বিচার হবে নির্যাতনের ভিত্তিতে—কেউ মামু-খালু দেখিয়ে পার পাবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অন্যায় করলেও তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”

সমাজ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন,
“একটি ভালো সমাজ গড়তে তিনটি জিনিস অপরিহার্য—উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। আমাদের সামনে দুটি নির্বাচন—একটি গণভোট, আরেকটি সাধারণ নির্বাচন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামি। হ্যাঁ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, না বিজয়ী হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।”

তিনি অতীত ও বর্তমানের রাজনীতি তুলে ধরে বলেন, “যারা অতীতে সততার প্রমাণ দিতে পারেনি, তাদের ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। যারা জনগণকে সম্মান দিয়েছে এবং যোগ্যতা দিয়ে সেই সম্মান ধরে রেখেছে, মানুষ তাদেরকেই বেছে নেবে। জামায়াত দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য, দখলদারিত্ব, ব্যাংক ডাকাতি ও ঋণখেলাপির রাজনীতি করে না।”

১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা বলেন, “আপনারা যদি আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দাবি তুলতে হবে না—আমাদের দায়িত্ব হবে উন্নয়ন আপনাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। আমার বাড়ি সারা বাংলাদেশে। যেখানে যা প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছে যাওয়া আমার দায়িত্ব। শহীদরা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন, সেই দায়িত্ব আমরা কাঁধে তুলে নিয়েছি।”

বক্তব্য শেষে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনের ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাতে প্রতীকীভাবে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে পটুয়াখালীর চারটি আসনের জোট প্রার্থীদের প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদেক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, পটুয়াখালী জেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান, বরিশাল মহানগর আমির জহির উদ্দিন মো. বাবর, পটুয়াখালী–১ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, পটুয়াখালী–৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম, পটুয়াখালী–৪ আসনের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা বিপুল জনসমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।