পটুয়াখালীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ১২২ বছরের পুরাতন জামে মসজিদের জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মানের প্রতিবাদে শত শত মুসল্লিদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফব্রুয়ারী) জুমার নামাজ শেষে পটুয়াখালী সদরের পুলিশ ফাঁরির পূর্ব পাশে সবচেয়ে পুরাতন (১২২ বছর) জামে মসজিদের শত শত মুসল্লি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভকালে বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ জব্বার খান, মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ হাজী মো. রেজাউল, নিয়মিত মুসুল্লি আহসান মুনির, মো. সাঈদুর রহমান, মো. শামীম, একেএম সিফাত শুভ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শত বছর আগে হিন্দু সম্প্রদায় মুসলমানদের নামাজের জন্য ৮ শতাংশের বেশী (০.০৮৫ একর) জমি মৌখিকভাবে দান করে রেকর্ড প্রদান করে। এ জমিতে ১৯০৩ সালে পটুয়াখালীতে প্রথম টিনশেড মসজিদ স্থাপন করে মুসুল্লিরা নামাজ আদায় করে আসছে। মসজিদ পরিচালনার জন্য মসজিদের জায়গায় টিন দিয়ে দোকানঘর তুলে ভাড়া দেয়। সম্প্রতি মসজিদের কাগজপত্র উত্তোলন করে দেখতে পায়, মসজিদের নামের রেকর্ডিয় পর্চার ০.০৮৫ এর সম্পত্তির অধিকাংশ বেশী জমি (০.০৫৭৫ একর) ভাড়াটিয়া হারুন, সফিউদ্দিন ও মো. হাচনগং আরএস ও এসএ রেকর্ডের সময় অবৈধভাবে তাদের নামে রেকর্ড করে। এ অবৈধ রেকর্ডের বিপরীতে মসজিদ কমিটি উক্ত পুরাতন জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট এর অনকূলে রেকর্ড সংশোধনের জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয় এর অধীন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক কার্যালয়ে উপযুক্ত আদালতে মামলা করার অনুমতি প্রার্থনা করলে ওয়াকফ প্রশাসক অনুমতি প্রদান করে, যে মামলা চলমান।
এ অবস্থায় মসজিদের জায়গায় বিবাধীরা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মানের উদ্যোগ নিলে, মসজিদ কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করে। জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী সদর উপজেলা ইউএনওকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। ইউএনও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মান কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এ নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ দখলদাররা বৃহষ্পতিবার পুনরায় স্থাপনা নির্মান কাজ শুরু করে। মসজিদ কমিটির অনুরোধে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।
মানববন্দনে বক্তারা অতি প্রাচীনতম পুরাতন মসজিদের জমিতে অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
জালাল আহমেদ: 










