০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে জমিজমা বিরোধে দালাল আক্কাস’র নেতৃত্বে স*ন্ত্রাসী হা*মলা, আ*হ*ত ৪

  • জালাল আহমেদ:
  • আপডেট সময়: ০৯:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৯১ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন ৭নং  লতাচাপলি ইউনিয়নের খাজুরা গ্রমে বায়না  জমিতে সাব দলিল না করে  দালাল আক্কাসগং ভেকু মেশিন দিয়ে জমির মাটিকাটার কাজে বাঁধা নিষেধ করলে জমি কেনা বেচার আলোচিত  দালাল  আক্কাস হাওলাদার ও তার ছেলে রাব্বি হাওলাদারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা চাপাতি, ছোড়া ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলায় চালায়। এতে চার জন রক্তাক্ত জখম হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে আহত পরিবারের মালিকানাধীন জমিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—জমি দাতা (বায়না) হাবিব মাতুব্বরের তিন ছেলে  মতিউর রহমান মাতুব্বর (৫০), জাকারিয়া (৪০) এবং আবু তালেব  মাতুব্বর (৩৫)। 

স্থানীয়রা জানান, হামলার পর হামলাকারীরা আহতদের ঘিরে রেখে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে  নিতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে মহিপুর থানার এসআই জসিম উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আহতদেরকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। আহতরা রাত ৯.১৫ মিঃ সময় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। 

অপরদিকে হামলাকারীদের মধ্যে আক্কাস হাওলাদারের ছেলে রাব্বি (২২) আহত হয়েছে বলে আক্কাস হাওলাদার জানান। 

কুয়াকাটা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা জানান, “আহতদের মধ্যে জাকারিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তার সিটি স্ক্যান ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।”

আহত পরিবার জানায়, তিন বছর আগে তারা ঢাকাস্থ ম্যাকটেন  গ্রুপের কাছে ৬০ শতাংশ জমি ৭৮ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি করেন। এ সময় ১৯ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে রেজিঃ বায়না দলিল করা হয়। শর্ত ছিল ছয় মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে সাব-কবলা দলিল করা হবে। কিন্তু ক্রেতাপক্ষ টাকা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সময়ক্ষেপণ করে আসছে।

আহতদের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বুধবার আক্কাস হাওলাদার ও তার ছেলে রাব্বির নেতৃত্বে লোকজন বেকু মেশিন দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কাটতে গেলে তারা বাঁধা দেয়। তখনই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এছাড়া হামলাকারীরা দুটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ আহতদের।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আক্কাস হাওলাদার বলেন, “মতিউর রহমানদের কাছ থেকে আমি জমি বিক্রি করিয়ে দিয়েছিলাম ঢাকার একটি কোম্পানির কাছে। রেজিস্ট্রি বায়না দলিল রয়েছে, যদিও সাব-কবলা দলিল এখনো হয়নি। জমিতে উন্নয়নের কাজ করতে গেলে তারা বাঁধা দিলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আমিও ও আমার ছেলে রাব্বী আহত হই। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

মহিপুর থানার  ওসি মো. মহব্বত খান জানান “ঘটনার বিষয়ে অবগত আছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...
জনপ্রিয়

পটুয়াখালীতে “জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীতে জমিজমা বিরোধে দালাল আক্কাস’র নেতৃত্বে স*ন্ত্রাসী হা*মলা, আ*হ*ত ৪

আপডেট সময়: ০৯:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন ৭নং  লতাচাপলি ইউনিয়নের খাজুরা গ্রমে বায়না  জমিতে সাব দলিল না করে  দালাল আক্কাসগং ভেকু মেশিন দিয়ে জমির মাটিকাটার কাজে বাঁধা নিষেধ করলে জমি কেনা বেচার আলোচিত  দালাল  আক্কাস হাওলাদার ও তার ছেলে রাব্বি হাওলাদারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা চাপাতি, ছোড়া ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলায় চালায়। এতে চার জন রক্তাক্ত জখম হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে আহত পরিবারের মালিকানাধীন জমিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—জমি দাতা (বায়না) হাবিব মাতুব্বরের তিন ছেলে  মতিউর রহমান মাতুব্বর (৫০), জাকারিয়া (৪০) এবং আবু তালেব  মাতুব্বর (৩৫)। 

স্থানীয়রা জানান, হামলার পর হামলাকারীরা আহতদের ঘিরে রেখে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে  নিতে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে মহিপুর থানার এসআই জসিম উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আহতদেরকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। আহতরা রাত ৯.১৫ মিঃ সময় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। 

অপরদিকে হামলাকারীদের মধ্যে আক্কাস হাওলাদারের ছেলে রাব্বি (২২) আহত হয়েছে বলে আক্কাস হাওলাদার জানান। 

কুয়াকাটা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা জানান, “আহতদের মধ্যে জাকারিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তার সিটি স্ক্যান ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।”

আহত পরিবার জানায়, তিন বছর আগে তারা ঢাকাস্থ ম্যাকটেন  গ্রুপের কাছে ৬০ শতাংশ জমি ৭৮ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি করেন। এ সময় ১৯ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে রেজিঃ বায়না দলিল করা হয়। শর্ত ছিল ছয় মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে সাব-কবলা দলিল করা হবে। কিন্তু ক্রেতাপক্ষ টাকা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সময়ক্ষেপণ করে আসছে।

আহতদের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন বুধবার আক্কাস হাওলাদার ও তার ছেলে রাব্বির নেতৃত্বে লোকজন বেকু মেশিন দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কাটতে গেলে তারা বাঁধা দেয়। তখনই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এছাড়া হামলাকারীরা দুটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ আহতদের।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আক্কাস হাওলাদার বলেন, “মতিউর রহমানদের কাছ থেকে আমি জমি বিক্রি করিয়ে দিয়েছিলাম ঢাকার একটি কোম্পানির কাছে। রেজিস্ট্রি বায়না দলিল রয়েছে, যদিও সাব-কবলা দলিল এখনো হয়নি। জমিতে উন্নয়নের কাজ করতে গেলে তারা বাঁধা দিলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে আমিও ও আমার ছেলে রাব্বী আহত হই। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

মহিপুর থানার  ওসি মো. মহব্বত খান জানান “ঘটনার বিষয়ে অবগত আছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”