০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পহেলা অগ্রহায়ণকে শুভ নববর্ষ পালন দাবীতে পটুয়াখালীতে এক কলেজ শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন


জালাল আহমেদ, প্রধান প্রতিবেদকঃ পহেলা অগ্রহায়নকে শুভ নববর্ষ হিসেবে পালন করার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পটুয়াখালী আব্দুল করিম মৃধা কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট এর সময় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে উক্ত দাবীতে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম স্বরচিত কবিতা ” পহেলা অগ্রহায়ণ শুভ নববর্ষ” পাঠ শেষে পহেলা অগ্রহায়ণকে শুভ নববর্ষ হিসেবে পালন করার দাবীতে লিখিত বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম পহেলা অগ্রহায়ণকে শুভ নববর্ষ পালনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, অগ্রহায়ণ এক বর্ণবহুল মাস। এ মাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ। চিরায়ত গ্রাম বাংলা সাজবে ফসলের গৌরবে। উৎসব ও নবান্নের সাজে সাজবে রুপসী বাংলা। এ মাসটি লোক-সংস্কৃতি ও বাংলার প্রকৃতিতে যেমন মিশে আছে, তেমনি স্মরণীয় হয়ে আছে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের চরণে। ওমা অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কি দেখেছি মধুর হাসি। মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর অগ্রহায়ণ মাসকেই বছরের প্রথম মাস বা খাজনা তোলার মাস ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি ১৫৫৬ খ্রিঃ প্রথমে ৯৬৩ হিজরিকে বাংলা সনের বয়স ৯৬৩ বছর ধরে দিয়ে তারপর প্রতি সৌর বছর অন্তর ৯৬৪, ৯৬৫, ৯৬৭ এ রূপ হিসেবে গণনা করতেন।

অবশ্য বাংলা সনের প্রতিষ্ঠাতা মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে প্রধানত রাজস্ব আদায়ের সুবিধাগত চিন্তা-ভাবনা মাথায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছিল সে কথা কম-বেশি অনেকেরই জানা। তবে অনেকেরই মনে আসেনা যে, বাংলা বছরের হিসাবে এক সময় অগ্রহায়ণ বছরের প্রথম মাস হিসাবে বিবেচিত হতো। কিন্তু আকবরী বাংলা সন প্রতিষ্ঠার সময়ই হয়তো অগ্রহায়ণ তার মর্যাদা হারিয়েছে। এই পাওয়া, হারানোর ঐতিহ্য স্থানকালে ব্যাপক।

নববর্ষ উৎসবের সবচেয়ে পুরানো হিসাব পাওয়া যায় আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় (MESOPOTAMIA)। বসন্ত ঋতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মধ্য মার্চে চাঁদ উঠার দিন দেখে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হতো বেবিলনে; অন্যদিকে মিসরীয়, ফিনিশীয় ও পারসিকদের বেলা বছর শুরু হতো জল বিষবের হিসাবে একুশে সেপ্টম্বরে। নববর্ষ জাপানে সর্বাধিক জনপ্রিয় উৎসব হিসাবে ১ থেকে ৩ জানুয়ারি উদযাপিত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ অব্দের পর থেকে পয়লা জানুয়ারি হয়ে ওঠে বর্ষ শুরুর দিন

ভারতীয় বহুবিচিত্র চরিত্রে অষ্টিকভাষী, দ্রাবিড়ভাষী ও আর্যভাষী জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রা ও সাংস্কৃতিক চরিত্রে ভিন্নতর নববর্ষের সময় ভিন্ন থেকে ভিন্নতর হয়ে উঠে। সেক্ষেত্রে আচার-আচরণের নববর্ষ অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভিন্নতার মধ্য দিয়েও উৎসবটাই ছিলো প্রধান বিষয়। দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎসবটাই ছিল বসন্ত বা শারদ ঋতুর হিসাবে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের যোগ সূত্র থাকা সত্ত্বেও ক্রমশ এর চরিত্র হয়ে ওঠে ধর্ম সম্প্রদায়-নিরপেক্ষ জাতীয় উৎসবের। নববর্ষের উৎসব ‘নওরোজ’ ইসলাম ধর্মের অনুপ্রবেশ সত্ত্বেও সর্বজনীন জাতীয় উৎসব হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। পারসিক মতে, নতুন বৎসরের প্রথম দিন। বিশ্বজুড়ে নববর্ষ উৎসব দিনক্ষণের এমনি বৈচিত্র্য নিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বাংলা নববর্ষ খুবই প্রাচীন। কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত ফসলের মাস হিসাবে এদেশীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নববর্ষ উৎসব। প্রধান ফসল কাটা মাসটি অগ্রহায়ণ বর্ষ শুরুর মাস হয়ে ওঠে। অঘ্রানের ফসল কাটা দিনের জন্য হলেও কৃষকের আঙ্গিনা স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দের আভাসে ভরে ওঠে। নুতন চালে তৈরি পিঠা-পায়েসের স্বাদে-গন্ধে তৃপ্তির যে, পরিবেশ তৈরি হয় তা প্রধানত উৎসব অনুষ্ঠানের বলেই মনে হয়। এমন যে অগ্রহায়ণ নববর্ষ তাকে সরিয়ে দিয়ে, রুক্ষ, রুদ্র বৈশাখের কপালে নববর্ষের টিপ পরিয়ে দেয়া, তাতে যার প্রয়োজন যতটাই সাধিত হোকনা কেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে আবার সংশ্লিষ্ট পন্ডিত ও সাংস্কৃতিবিদদের ভেবে দেখা প্রয়োজন।

আর সুবে বাংলার যতেষ্ট কাটা ছেঁড়ার পর ছোট ভূখন্ড বাংলাদেশে রূপান্তরিত। তাই আমার বরাবরই কথাটা মনে হয়েছে যে, সবমিলিয়ে অঘ্রানকেই তার পুরানো অবস্থানটা ফিরিয়ে দেখা ভালো। সময়টা উৎসব-অনুষ্ঠানের পক্ষে খুবই উপযোগী। অঘ্রানের আবহাওয়া বড়ো মনোরম। বাতাসে শীতের আমেজ, আকাশে নীলের বিস্তার, চারদিকে উজ্জ্বলতা যেন উৎসবেরই মাস। বিশেষ করে আবহাওয়া, পরিবেশ, রোদের উত্তাপ এ সবকিছু মিলিয়ে যেন নববর্ষের উৎসবের বিচারটা সহজেই বৈশাখকে হারিয়ে যায়। অঘ্রানের দাবিটাই প্রধান হয়ে উঠে। ফসলের সুবাদে গড়ে উঠা সাময়িক স্বাচ্ছন্দের কথা বাদ দিলেও অঘ্রানের মিষ্টি রোদে হালকা শীতের আমেজ মেঘে গুড়-পাঠালী বা পিঠা-পায়েসের স্বাদে-গন্ধে চমৎকার একটা উৎসবের আবহ তৈরি হয়ে যায়। তৈরি হয় মনোরম সাংস্কৃতিক পটভূমি। তাই অঘ্রানকেই নববর্ষের মাস হিসাবে পুনরায় গ্রহণ করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিত। সবদিক থেকে বিচারে অঘ্রানের দাবি কোনো মতেই ঠেলে ফেলে দেবার মতো নয়। আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার-বিবেচনায় বসা উচিত।

ঐতিহ্য সম্মত “পহেলা অগ্রহায়নকে শুভ নববর্ষ” হিসাবে উৎসব পালন করার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের কর্মকর্তাদের কাছে দাবী করেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম।

এ সময় তার সাথে ছিলেন বোতলবুনিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম সিরাজ, আব্দুল করিম মৃধা কলেজের সহকারি অধ্যাপক মোঃ ফারুক আহমেদ ও সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শহিদুল ইসলাম।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক: সেরা বরগুনা আইডিয়াল কলেজ

পহেলা অগ্রহায়ণকে শুভ নববর্ষ পালন দাবীতে পটুয়াখালীতে এক কলেজ শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময়: ০২:১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

জালাল আহমেদ, প্রধান প্রতিবেদকঃ পহেলা অগ্রহায়নকে শুভ নববর্ষ হিসেবে পালন করার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পটুয়াখালী আব্দুল করিম মৃধা কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট এর সময় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে উক্ত দাবীতে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম স্বরচিত কবিতা ” পহেলা অগ্রহায়ণ শুভ নববর্ষ” পাঠ শেষে পহেলা অগ্রহায়ণকে শুভ নববর্ষ হিসেবে পালন করার দাবীতে লিখিত বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম পহেলা অগ্রহায়ণকে শুভ নববর্ষ পালনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, অগ্রহায়ণ এক বর্ণবহুল মাস। এ মাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ। চিরায়ত গ্রাম বাংলা সাজবে ফসলের গৌরবে। উৎসব ও নবান্নের সাজে সাজবে রুপসী বাংলা। এ মাসটি লোক-সংস্কৃতি ও বাংলার প্রকৃতিতে যেমন মিশে আছে, তেমনি স্মরণীয় হয়ে আছে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের চরণে। ওমা অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কি দেখেছি মধুর হাসি। মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর অগ্রহায়ণ মাসকেই বছরের প্রথম মাস বা খাজনা তোলার মাস ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি ১৫৫৬ খ্রিঃ প্রথমে ৯৬৩ হিজরিকে বাংলা সনের বয়স ৯৬৩ বছর ধরে দিয়ে তারপর প্রতি সৌর বছর অন্তর ৯৬৪, ৯৬৫, ৯৬৭ এ রূপ হিসেবে গণনা করতেন।

অবশ্য বাংলা সনের প্রতিষ্ঠাতা মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে প্রধানত রাজস্ব আদায়ের সুবিধাগত চিন্তা-ভাবনা মাথায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছিল সে কথা কম-বেশি অনেকেরই জানা। তবে অনেকেরই মনে আসেনা যে, বাংলা বছরের হিসাবে এক সময় অগ্রহায়ণ বছরের প্রথম মাস হিসাবে বিবেচিত হতো। কিন্তু আকবরী বাংলা সন প্রতিষ্ঠার সময়ই হয়তো অগ্রহায়ণ তার মর্যাদা হারিয়েছে। এই পাওয়া, হারানোর ঐতিহ্য স্থানকালে ব্যাপক।

নববর্ষ উৎসবের সবচেয়ে পুরানো হিসাব পাওয়া যায় আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় (MESOPOTAMIA)। বসন্ত ঋতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মধ্য মার্চে চাঁদ উঠার দিন দেখে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হতো বেবিলনে; অন্যদিকে মিসরীয়, ফিনিশীয় ও পারসিকদের বেলা বছর শুরু হতো জল বিষবের হিসাবে একুশে সেপ্টম্বরে। নববর্ষ জাপানে সর্বাধিক জনপ্রিয় উৎসব হিসাবে ১ থেকে ৩ জানুয়ারি উদযাপিত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ অব্দের পর থেকে পয়লা জানুয়ারি হয়ে ওঠে বর্ষ শুরুর দিন

ভারতীয় বহুবিচিত্র চরিত্রে অষ্টিকভাষী, দ্রাবিড়ভাষী ও আর্যভাষী জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রা ও সাংস্কৃতিক চরিত্রে ভিন্নতর নববর্ষের সময় ভিন্ন থেকে ভিন্নতর হয়ে উঠে। সেক্ষেত্রে আচার-আচরণের নববর্ষ অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভিন্নতার মধ্য দিয়েও উৎসবটাই ছিলো প্রধান বিষয়। দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎসবটাই ছিল বসন্ত বা শারদ ঋতুর হিসাবে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের যোগ সূত্র থাকা সত্ত্বেও ক্রমশ এর চরিত্র হয়ে ওঠে ধর্ম সম্প্রদায়-নিরপেক্ষ জাতীয় উৎসবের। নববর্ষের উৎসব ‘নওরোজ’ ইসলাম ধর্মের অনুপ্রবেশ সত্ত্বেও সর্বজনীন জাতীয় উৎসব হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। পারসিক মতে, নতুন বৎসরের প্রথম দিন। বিশ্বজুড়ে নববর্ষ উৎসব দিনক্ষণের এমনি বৈচিত্র্য নিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশের বাংলা নববর্ষ খুবই প্রাচীন। কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত ফসলের মাস হিসাবে এদেশীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নববর্ষ উৎসব। প্রধান ফসল কাটা মাসটি অগ্রহায়ণ বর্ষ শুরুর মাস হয়ে ওঠে। অঘ্রানের ফসল কাটা দিনের জন্য হলেও কৃষকের আঙ্গিনা স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দের আভাসে ভরে ওঠে। নুতন চালে তৈরি পিঠা-পায়েসের স্বাদে-গন্ধে তৃপ্তির যে, পরিবেশ তৈরি হয় তা প্রধানত উৎসব অনুষ্ঠানের বলেই মনে হয়। এমন যে অগ্রহায়ণ নববর্ষ তাকে সরিয়ে দিয়ে, রুক্ষ, রুদ্র বৈশাখের কপালে নববর্ষের টিপ পরিয়ে দেয়া, তাতে যার প্রয়োজন যতটাই সাধিত হোকনা কেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে আবার সংশ্লিষ্ট পন্ডিত ও সাংস্কৃতিবিদদের ভেবে দেখা প্রয়োজন।

আর সুবে বাংলার যতেষ্ট কাটা ছেঁড়ার পর ছোট ভূখন্ড বাংলাদেশে রূপান্তরিত। তাই আমার বরাবরই কথাটা মনে হয়েছে যে, সবমিলিয়ে অঘ্রানকেই তার পুরানো অবস্থানটা ফিরিয়ে দেখা ভালো। সময়টা উৎসব-অনুষ্ঠানের পক্ষে খুবই উপযোগী। অঘ্রানের আবহাওয়া বড়ো মনোরম। বাতাসে শীতের আমেজ, আকাশে নীলের বিস্তার, চারদিকে উজ্জ্বলতা যেন উৎসবেরই মাস। বিশেষ করে আবহাওয়া, পরিবেশ, রোদের উত্তাপ এ সবকিছু মিলিয়ে যেন নববর্ষের উৎসবের বিচারটা সহজেই বৈশাখকে হারিয়ে যায়। অঘ্রানের দাবিটাই প্রধান হয়ে উঠে। ফসলের সুবাদে গড়ে উঠা সাময়িক স্বাচ্ছন্দের কথা বাদ দিলেও অঘ্রানের মিষ্টি রোদে হালকা শীতের আমেজ মেঘে গুড়-পাঠালী বা পিঠা-পায়েসের স্বাদে-গন্ধে চমৎকার একটা উৎসবের আবহ তৈরি হয়ে যায়। তৈরি হয় মনোরম সাংস্কৃতিক পটভূমি। তাই অঘ্রানকেই নববর্ষের মাস হিসাবে পুনরায় গ্রহণ করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিত। সবদিক থেকে বিচারে অঘ্রানের দাবি কোনো মতেই ঠেলে ফেলে দেবার মতো নয়। আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার-বিবেচনায় বসা উচিত।

ঐতিহ্য সম্মত “পহেলা অগ্রহায়নকে শুভ নববর্ষ” হিসাবে উৎসব পালন করার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের কর্মকর্তাদের কাছে দাবী করেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম।

এ সময় তার সাথে ছিলেন বোতলবুনিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম সিরাজ, আব্দুল করিম মৃধা কলেজের সহকারি অধ্যাপক মোঃ ফারুক আহমেদ ও সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শহিদুল ইসলাম।