০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুমকীতে জবর দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মো: রিয়াজুল ইসলাম, দুমকী, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর দুমকীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে বিবাদী সোহরাব মৃধা ও হামিদ মৃধা গং গত শুক্রবার দুপুরে দু’টি ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুমকী গ্রামে পৌত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে মজিবর মৃধা এর সঙ্গে তার আপন চাচতো ভাই সোহরাব মৃধা গংয়ের বিরোধ চলে আসছে অনেক দিন ধরে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায়। এর প্রেক্ষিতে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ওপর ২০২০ সালে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন বিজ্ঞ আদালত। কিন্তু সেই সময় নিষেধাজ্ঞার বর্ননা না দিয়ে সোহরাব মৃধা ও হামিদ মৃধা গং গত শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মজিবর মৃধার রোপিত গাছপালা ও বেড়া কেটে দুই চালা দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুমকী মৌজার হাল এস এ ৬৩ নং খতিয়ানের হাল দাগ নং -১১৮৮ (বিরোধপূর্ণ জমি) নতুন দু’টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন আগেও এখানে কোনো ঘর ছিল না। মজিবর মৃধা বেড়া দিয়ে গাছগাছালি লাগাতেন।

ভুক্তভোগী মজিবর মৃধা আলোর সময়কে বলেন, ‘এ জমি আমি পৌত্রিক ও ক্রয় সূত্রে ভোগদখল করতাম। আমার কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও জোর করে আমার চাচতো ভাইরা লোকজন নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আমার জমিটি দখল করে দুটি ঘর তুলেছে। এর আগেও আমার গাছগাছালি কেটে নিলে আমি বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হই। সেসময় একটি ভায়োলেশন মামলা রুজু হয় তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সে মামলার জবাব তারা দেয় নি। তারপর থেকে আমাকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে সোহরাব মৃধা ও হামিদ মৃধা গং। এমনকি মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

অপরপক্ষে পাল্টা অভিযোগ তুলে সোহরাব মৃধা বলেন, এই জমিতে কখনো আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন তা আমরা জানি না। অপর দিকে আসলে রাস্তা নির্মানের জন্য ঠিকাদার কয়েকটি গাছ কেটেছিলেন। এই সূত্র ধরে মজিবর মৃধা আমাদের নামে আালতে একটি মিথ্যা মামলা করেছিলেন। এতদিন মজিবর মৃধা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই জমি দখলে রেখেছিলেন। এখন আর জোরজবরদস্তি চলবেনা। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঘর তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এই ঘর আলগা ঘর। আমরা যদি মাপজোপে না পাই তাহলে ঘর সরিয়ে নেব।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণ খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। দু’পক্ষই আমাকে অবহিত করেছেন। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

দুমকীতে জবর দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

আপডেট সময়: ১০:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

মো: রিয়াজুল ইসলাম, দুমকী, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর দুমকীতে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে বিবাদী সোহরাব মৃধা ও হামিদ মৃধা গং গত শুক্রবার দুপুরে দু’টি ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুমকী গ্রামে পৌত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে মজিবর মৃধা এর সঙ্গে তার আপন চাচতো ভাই সোহরাব মৃধা গংয়ের বিরোধ চলে আসছে অনেক দিন ধরে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায়। এর প্রেক্ষিতে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ওপর ২০২০ সালে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন বিজ্ঞ আদালত। কিন্তু সেই সময় নিষেধাজ্ঞার বর্ননা না দিয়ে সোহরাব মৃধা ও হামিদ মৃধা গং গত শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মজিবর মৃধার রোপিত গাছপালা ও বেড়া কেটে দুই চালা দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুমকী মৌজার হাল এস এ ৬৩ নং খতিয়ানের হাল দাগ নং -১১৮৮ (বিরোধপূর্ণ জমি) নতুন দু’টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন আগেও এখানে কোনো ঘর ছিল না। মজিবর মৃধা বেড়া দিয়ে গাছগাছালি লাগাতেন।

ভুক্তভোগী মজিবর মৃধা আলোর সময়কে বলেন, ‘এ জমি আমি পৌত্রিক ও ক্রয় সূত্রে ভোগদখল করতাম। আমার কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও জোর করে আমার চাচতো ভাইরা লোকজন নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আমার জমিটি দখল করে দুটি ঘর তুলেছে। এর আগেও আমার গাছগাছালি কেটে নিলে আমি বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হই। সেসময় একটি ভায়োলেশন মামলা রুজু হয় তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সে মামলার জবাব তারা দেয় নি। তারপর থেকে আমাকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে সোহরাব মৃধা ও হামিদ মৃধা গং। এমনকি মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

অপরপক্ষে পাল্টা অভিযোগ তুলে সোহরাব মৃধা বলেন, এই জমিতে কখনো আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন তা আমরা জানি না। অপর দিকে আসলে রাস্তা নির্মানের জন্য ঠিকাদার কয়েকটি গাছ কেটেছিলেন। এই সূত্র ধরে মজিবর মৃধা আমাদের নামে আালতে একটি মিথ্যা মামলা করেছিলেন। এতদিন মজিবর মৃধা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই জমি দখলে রেখেছিলেন। এখন আর জোরজবরদস্তি চলবেনা। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঘর তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এই ঘর আলগা ঘর। আমরা যদি মাপজোপে না পাই তাহলে ঘর সরিয়ে নেব।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণ খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। দু’পক্ষই আমাকে অবহিত করেছেন। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।