০৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুমকীতে স্বামী-স্ত্রী’র মনোমালিন্য, হাসপাতালে নবজাতক রেখে পালালেন মা !

মো. রিয়াজুল ইসলাম, পটুয়াখালী: স্বামী-স্ত্রী’র মনোমালিন্যের জেরে পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতককে রেখে পালিয়ে এসেছেন সানজিদা আক্তার পপি (২২) নামের এক নিষ্ঠুর মা। এমন অভিযোগ তুলে গতকাল (১৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করা হলে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর সাথে সংসার করবে না এমন সিদ্ধান্তে বাচ্চাটিকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইনজেকশন নিয়ে অকাল গর্ভপাত করার মত তীব্র অভিযোগ রয়েছে পপি’র বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সানজিদা আক্তার পপি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মোজাম্মেল হকের মেয়ে এবং উপজেলার দুমকী সাতানী গ্রামের আ: রব হাওলাদারের ছেলে মো. আল আমিনের স্ত্রী।

জানা গেছে, প্রায় ১ বছর আগে পপি ও আল আমিনের বিয়ে হয়। ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পপিকে
সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে পরের দিন (১৬ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি। বাচ্চাটি অসুস্থ হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেলে কাউকে কিছু না জনিয়ে রিলিজ নিয়ে পপি ও তার মা দুমকীতে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন।

অভিযোগ করে শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, “পুরুষদের জন্য কী কোন আইন নেই? আমার সাথে যদি কোনো মনোমালিন্য থাকে, অভিযোগ থাকে, আমার যদি কোন অন্যায় থাকে, তবে তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। একজন মা কী করে তার অসুস্থ নবজাতক বাচ্চা হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যেতে পারে?”

শ্বাশুড়ির প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “তিনিও তো একজন মা। মুমূর্ষু অবস্থায় বাচ্চাটাকে ফেলে পালিয়ে যেতে এবং আমার সাথে সংসার না করতে কীভাবে সে তার মেয়েকে প্ররোচনা দিতে পারে?”

অপর দিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত পপি জানায়, তার স্বামী মেয়েদের সাথে কথা বলে এবং ফোনে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে তাকে মারধর করে এবং পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করতে দেয় না।একপ্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, পালিয়ে নয়, বিকেলের দিকে রিলিজ নিয়ে চলে এসেছেন তারা (মা-মেয়ে)। বাচ্চা অসুস্থ। যদি বাচ্চার কিছু হয়ে যায় তবে সব দোষ তার এবং তার পরিবারের লোকজনের ওপর পড়বে এ জন্য চলে এসেছেন।

এ বিষয়ে জানতে আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মর্তুজা শুক্কুর জানান, “বিষয়টি লোক মারফত শুনতে পেয়েছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

দুমকীতে স্বামী-স্ত্রী’র মনোমালিন্য, হাসপাতালে নবজাতক রেখে পালালেন মা !

আপডেট সময়: ০১:৪৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

মো. রিয়াজুল ইসলাম, পটুয়াখালী: স্বামী-স্ত্রী’র মনোমালিন্যের জেরে পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতককে রেখে পালিয়ে এসেছেন সানজিদা আক্তার পপি (২২) নামের এক নিষ্ঠুর মা। এমন অভিযোগ তুলে গতকাল (১৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করা হলে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর সাথে সংসার করবে না এমন সিদ্ধান্তে বাচ্চাটিকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইনজেকশন নিয়ে অকাল গর্ভপাত করার মত তীব্র অভিযোগ রয়েছে পপি’র বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সানজিদা আক্তার পপি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মোজাম্মেল হকের মেয়ে এবং উপজেলার দুমকী সাতানী গ্রামের আ: রব হাওলাদারের ছেলে মো. আল আমিনের স্ত্রী।

জানা গেছে, প্রায় ১ বছর আগে পপি ও আল আমিনের বিয়ে হয়। ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পপিকে
সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে পরের দিন (১৬ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি। বাচ্চাটি অসুস্থ হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেলে কাউকে কিছু না জনিয়ে রিলিজ নিয়ে পপি ও তার মা দুমকীতে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন।

অভিযোগ করে শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, “পুরুষদের জন্য কী কোন আইন নেই? আমার সাথে যদি কোনো মনোমালিন্য থাকে, অভিযোগ থাকে, আমার যদি কোন অন্যায় থাকে, তবে তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। একজন মা কী করে তার অসুস্থ নবজাতক বাচ্চা হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যেতে পারে?”

শ্বাশুড়ির প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “তিনিও তো একজন মা। মুমূর্ষু অবস্থায় বাচ্চাটাকে ফেলে পালিয়ে যেতে এবং আমার সাথে সংসার না করতে কীভাবে সে তার মেয়েকে প্ররোচনা দিতে পারে?”

অপর দিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত পপি জানায়, তার স্বামী মেয়েদের সাথে কথা বলে এবং ফোনে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে তাকে মারধর করে এবং পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করতে দেয় না।একপ্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, পালিয়ে নয়, বিকেলের দিকে রিলিজ নিয়ে চলে এসেছেন তারা (মা-মেয়ে)। বাচ্চা অসুস্থ। যদি বাচ্চার কিছু হয়ে যায় তবে সব দোষ তার এবং তার পরিবারের লোকজনের ওপর পড়বে এ জন্য চলে এসেছেন।

এ বিষয়ে জানতে আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মর্তুজা শুক্কুর জানান, “বিষয়টি লোক মারফত শুনতে পেয়েছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”