০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে পটুয়াখালীর আজিজ আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধ, সাময়িক বরখাস্ত ১ জন

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আজিজ আহম্মেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক (ইনডেক্স: ৩০৭৯৭০৮) প্রভাষক (রসায়ন) পদ থেকে অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি চাকুরীর বিধান বহির্ভূত পাঁচ বছর ১ মাস ১৮ দিন একই সময় দুটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে তার এবং অবৈধভাবে মো. এবাদুল হক (ইনডেক্স: ৩০৭৯৭১৫, প্রভাষক ( ব্যবস্থাপনা) নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা, নারী সহকর্মীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কসহ নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এ শিক্ষকদ্বয়ের বেতন-ভাতা স্থগিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

অত্র আজিজ আহমেদ কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদার, মো. দেলোয়ার হোসেন ও ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার এবং গর্ভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মো. ফরিদ আহম্মদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মাউশি বরাবর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক একাধিকবার তদন্ত টিম গঠন করে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের এমপিওতে কলেজটির সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড় করলেও অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহসানুল হক ও প্রভাষক মো. এবাদুল হকের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখে মাউশি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মাউশি অধিদপ্তরের স্মারক নং ৭ জি /১৫৪(ক-৩)/২০১০ পত্রে ও বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়, মাউশি এর স্মারক মাউশি/ ববি/২০২২/৭১০ পত্রসহ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজ আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হকের নিয়োগে অনিয়ম-দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, জাল-জালিয়াতি ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর তাদের বেতন ভাতা স্থগিত করেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অধিভুক্ত কলেজ সমূহের পরিদর্শক সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত টিম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তদন্তকালে অধ্যক্ষ আহসানুল হকের নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র, কলেজের গভর্নিংবডির গঠন কার্যক্রমের নথি পর্যালোচনা, অভিযোগকারী অভিভাবক সদস্য, সাময়িক বরখাস্তের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্যে অভিযোগের প্রমান পেয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত টিম। একই সাথে ওই প্রতিবেদনে কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ এবাদুল হকের নিয়োগের বৈধতা না থাকায় তার বেতন ভাতা বন্ধেরও সুপারিশ করা হয়।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ আহসানুল হকের বিরুদ্ধে তার অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থআত্মসাৎ ও নারী সহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কসহ নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার গং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মাউশি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দূর্ণীতির প্রতিকার চেয়ে গর্ভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মো. ফরিদ আহম্মদও অনুরূপ অভিযোগ করেছিলেন। এসকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটির তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর জানুয়ারী মাস থেকে অভিযুক্তদ্বয়ের বেতন ভাতা স্থগিত করে দিয়েছে।

অবৈধভাবে নিয়োগ হওয়া অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক ও অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎকারী প্রভাষক মো. এবাদুল হক এর চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বেতন স্হগিত হলেও গভর্নিং বডি অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ও প্রভাষক এর বিষয়ে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগকারী মো. জসিম হাওলাদার ও ফরিদ আহম্মদ এবং নুরুন্নাহার সাংবাদিকদের জানান।

এ ছাড়াও উক্ত কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক মো. আল আমিন এর প্রথম স্ত্রী মোসা. নূরুন্নাহার বেগম কর্তৃক পারিবারিক আদালতে মামলা করায় একাধিকবার কারাভোগ এবং মাউশি শিক্ষা অধিদপ্তরে দায়ের করা অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় প্রভাষক মো. আল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গর্ভনিং বডির সভাপতি দুমকি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট মো. হারন অর রশিদ হাওলাদার, প্রভাষক আল আমিনের সাময়িক বরখাস্ত চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার পদক্ষেপ না নিয়ে সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের পায়তারা করছেন বলে নুরুন্নাহার বেগম জানান।

এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ্যাড. হারুন অর রশিদ হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিঠি পেয়েছি এবং মাউশি বরাবরে অধ্যক্ষ আহসানুল হক, প্রভাষক মো. এবাদুল হক এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সে ব্যবস্থা মাউশিকে নিতে লিখিতভাবে বলেছি। বেতন- ভাতা তারা দেন, তারাই ব্যবস্থা নিবেন বলে ফোন কেটে দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মুজিবুর রহমান জানান, মাউশি আজিজ আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করেছে তার চিঠি পেয়েছি। এখন গর্ভনিং কমিটি ওনাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানিনা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাধিকবার তদন্ত করার পর মাউশি শিক্ষা অধিদপ্তর আজিজ আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক ও প্রভাষক মোঃ এবাদুল হকের বেতন ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। এখন গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্ত মতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রকাশ, ২০০২ সালে ২.০৬ একর জমিতে স্থানীয় শিক্ষানুরাগি আজিজ আহমেদ তার নামে কলেজটি করেন। ২০১০ সালের মে মাসে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। কলেজটিতে বর্তমানে ৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।

Tag:

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সেইভ করুন:

আমাদের সম্পর্কে জানুন:

South BD News 24

South BD News 24 is committed to publish the daily news of South Bengal based on authenticity, honesty and courage...

দশমিনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ভূমি জবর দখলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

জাল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে পটুয়াখালীর আজিজ আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধ, সাময়িক বরখাস্ত ১ জন

আপডেট সময়: ১১:৪৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আজিজ আহম্মেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক (ইনডেক্স: ৩০৭৯৭০৮) প্রভাষক (রসায়ন) পদ থেকে অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি চাকুরীর বিধান বহির্ভূত পাঁচ বছর ১ মাস ১৮ দিন একই সময় দুটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে তার এবং অবৈধভাবে মো. এবাদুল হক (ইনডেক্স: ৩০৭৯৭১৫, প্রভাষক ( ব্যবস্থাপনা) নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা, নারী সহকর্মীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কসহ নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এ শিক্ষকদ্বয়ের বেতন-ভাতা স্থগিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

অত্র আজিজ আহমেদ কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদার, মো. দেলোয়ার হোসেন ও ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার এবং গর্ভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মো. ফরিদ আহম্মদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মাউশি বরাবর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক একাধিকবার তদন্ত টিম গঠন করে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের এমপিওতে কলেজটির সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড় করলেও অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহসানুল হক ও প্রভাষক মো. এবাদুল হকের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখে মাউশি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মাউশি অধিদপ্তরের স্মারক নং ৭ জি /১৫৪(ক-৩)/২০১০ পত্রে ও বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়, মাউশি এর স্মারক মাউশি/ ববি/২০২২/৭১০ পত্রসহ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজ আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হকের নিয়োগে অনিয়ম-দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, জাল-জালিয়াতি ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর তাদের বেতন ভাতা স্থগিত করেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অধিভুক্ত কলেজ সমূহের পরিদর্শক সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত টিম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তদন্তকালে অধ্যক্ষ আহসানুল হকের নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র, কলেজের গভর্নিংবডির গঠন কার্যক্রমের নথি পর্যালোচনা, অভিযোগকারী অভিভাবক সদস্য, সাময়িক বরখাস্তের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্যে অভিযোগের প্রমান পেয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত টিম। একই সাথে ওই প্রতিবেদনে কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ এবাদুল হকের নিয়োগের বৈধতা না থাকায় তার বেতন ভাতা বন্ধেরও সুপারিশ করা হয়।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ আহসানুল হকের বিরুদ্ধে তার অধ্যক্ষ পদের নিয়োগ জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থআত্মসাৎ ও নারী সহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কসহ নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনে অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার গং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মাউশি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দূর্ণীতির প্রতিকার চেয়ে গর্ভনিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মো. ফরিদ আহম্মদও অনুরূপ অভিযোগ করেছিলেন। এসকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটির তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর জানুয়ারী মাস থেকে অভিযুক্তদ্বয়ের বেতন ভাতা স্থগিত করে দিয়েছে।

অবৈধভাবে নিয়োগ হওয়া অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক ও অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎকারী প্রভাষক মো. এবাদুল হক এর চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বেতন স্হগিত হলেও গভর্নিং বডি অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ও প্রভাষক এর বিষয়ে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগকারী মো. জসিম হাওলাদার ও ফরিদ আহম্মদ এবং নুরুন্নাহার সাংবাদিকদের জানান।

এ ছাড়াও উক্ত কলেজের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক মো. আল আমিন এর প্রথম স্ত্রী মোসা. নূরুন্নাহার বেগম কর্তৃক পারিবারিক আদালতে মামলা করায় একাধিকবার কারাভোগ এবং মাউশি শিক্ষা অধিদপ্তরে দায়ের করা অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় প্রভাষক মো. আল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গর্ভনিং বডির সভাপতি দুমকি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট মো. হারন অর রশিদ হাওলাদার, প্রভাষক আল আমিনের সাময়িক বরখাস্ত চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার পদক্ষেপ না নিয়ে সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের পায়তারা করছেন বলে নুরুন্নাহার বেগম জানান।

এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ্যাড. হারুন অর রশিদ হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিঠি পেয়েছি এবং মাউশি বরাবরে অধ্যক্ষ আহসানুল হক, প্রভাষক মো. এবাদুল হক এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সে ব্যবস্থা মাউশিকে নিতে লিখিতভাবে বলেছি। বেতন- ভাতা তারা দেন, তারাই ব্যবস্থা নিবেন বলে ফোন কেটে দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মুজিবুর রহমান জানান, মাউশি আজিজ আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করেছে তার চিঠি পেয়েছি। এখন গর্ভনিং কমিটি ওনাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানিনা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাধিকবার তদন্ত করার পর মাউশি শিক্ষা অধিদপ্তর আজিজ আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক ও প্রভাষক মোঃ এবাদুল হকের বেতন ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। এখন গর্ভনিং বডির সিদ্ধান্ত মতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রকাশ, ২০০২ সালে ২.০৬ একর জমিতে স্থানীয় শিক্ষানুরাগি আজিজ আহমেদ তার নামে কলেজটি করেন। ২০১০ সালের মে মাসে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। কলেজটিতে বর্তমানে ৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।