‘উদারতার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে না পারে। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে কেউ জড়িত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’—এমন মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল হক।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গলাচিপায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে বক্তব্য দিয়ে মানুষের মধ্যে আবেগ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সেই আবেগ তৈরি করতে পেরেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি সেই অবদান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল যোগাযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘উদারতার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার সঙ্গে অনলাইনে ভার্চুয়াল যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় কারা বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের তালিকা ও অডিও প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যেহেতু শেখ হাসিনা একজন দণ্ডিত ব্যক্তি এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাই প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রাজনৈতিকভাবেও এ বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। উদারতার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চাইনি, অতীতে আমাদের ওপর যে ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে, আমরাও তাদের সঙ্গে একই আচরণ করি। আমি বলেছি, এলাকার মানুষ এলাকায় থাকুক। তবে যারা অতিরিক্ত অন্যায় করেছে, তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত নিজেদেরই করতে হবে। প্রকৃতিরও একটি বিচার রয়েছে, যাকে বলা হয় ন্যাচারাল পানিশমেন্ট।’
রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলতাব হোসেন খান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইখতিয়ার কবির, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খানসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সভায় বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ সুগম হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও তাঁরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।