মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন দিনের জন্য নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সিম ভাড়া দিয়েছিলেন এক অটোচালকের কাছে। কিন্তু ওই সিম ব্যবহার করে মাত্র তিন দিনেই ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সিমের মালিক মো. লিটন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়ার পর লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার লিটন খুলনার খালিশপুরের বড় বয়রা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বৈকালী এলাকার একটি চায়ের দোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শেখ সাখির আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৪ জন দোকানদারের নাম পাওয়া যায়। পরবর্তী অনুসন্ধানে লিটনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।
জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানান, নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ ও নগদের এজেন্ট সিম খুলনার বয়রা এলাকার হানিফ নামের এক অটোচালকের কাছে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন দিনের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ওই সিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিকাশ অ্যাকাউন্টের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৭ থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকা লেনদেন হয়েছে। সিআইডির দাবি, এসব লেনদেনের সঙ্গে অনলাইন জুয়ার সাইটের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থের বিনিময়ে নিজের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন লিটন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন ও একটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সিম জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সিম অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়ার ঝুঁকি এবং এসব সিম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থের সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।