পটুয়াখালীর বাউফলে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তা এম এম শাহাবুদ্দিনকে তাঁর নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কার্যালয়টির চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা, গজিয়েছে ঝোপঝাড়। সব মিলিয়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যালয়ের পরিবেশ ও কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো হাসপাতাল এলাকায় অবস্থিত স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। কার্যালয়ের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে আশপাশের জায়গা। এমনকি কার্যালয়ের বারান্দায় রাখা হয়েছে লেপ-তোশক তৈরির বিভিন্ন মালামাল। অফিসের সামনে নেই কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিনকে তাঁর নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত পাওয়া যায় না। তিনি কোথায় বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, সে বিষয়েও সাধারণ মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও সেবা নিতে এসে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিন জানান, প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাঁর কার্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। বন্যার সময় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি সেখানে বসেন না। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয় বলে নিয়মিত কার্যালয়ে বসা সম্ভব হয় না।

তবে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় কার্যালয়টিতে বিদ্যুৎ-সংযোগের অস্তিত্ব দেখা গেছে। ফলে বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকার বিষয়ে কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সরেজমিনে পাওয়া চিত্রে অসংগতি দেখা যায়।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, কার্যালয়টি মেরামত করা প্রয়োজন। এ কারণে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করেন। কার্যালয়টি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোথায় বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ওই কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন বলে শুনেছেন।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের এমন বেহাল অবস্থা এবং কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে অস্পষ্টতা জনসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যালয়টি সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সেখানে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।