পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শিলার (৪৫) রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ সময় নিহতের স্বামী ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। দাবি পূরণে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দেন তাঁরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর নতুন ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে বাহেরচর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গাবালী থানার সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁরা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
নিহত ফারহানা ইয়াসমিন শিলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের একমাত্র কন্যা। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাহেরচর বাজার-সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে শিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে পৈতৃক সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে শিলার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে, সোমবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে স্বজন ও এলাকাবাসী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তাঁরা।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, শিলার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
ফারহানা ইয়াসমিন শিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের একটাই দাবি—কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ ছাড়াই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।