পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিপিসি (বোয়ালিয়া, পক্ষিয়া ও চরখালী) স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় নেই কোনো শিক্ষক-কর্মচারী। নেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক শ্রেণিকক্ষও। এমনকি নিয়মিত পাঠদানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে কলেজ শাখাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাব এবং নিয়মিত পাঠদান না হওয়াকেই শিক্ষার্থীদের খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করেন শরিফুল সিকদার ও মো. আকতার হোসেন। দুজনই অকৃতকার্য হওয়ায় এবার কলেজ শাখার ফলাফলে পাসের হার শূন্যে নেমে এসেছে। এর আগের বছর ২০২৫ সালে চারজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মাত্র একজন। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি ফলাফলেও দেখা যাচ্ছে হতাশাজনক চিত্র।
প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার যাত্রা শুরু হয় ২০২২ সালে। ওই বছর বিপিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কলেজ শাখার অনুমোদন পেয়ে বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। অনুমোদনের পর থেকেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চালু হয়।
তবে শুরু থেকেই কলেজ শাখার শিক্ষা কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রথমবারের মতো ছয়জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হন মাত্র একজন। পরবর্তী বছর ২০২৫ সালে চার জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেন একজন। আর সর্বশেষ ২০২৬ সালে দুইজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। তিন বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির একাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি রয়েছেন মাত্র তিনজন। তবে তাঁদের নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক, কর্মচারী ও শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার আগ্রহও তৈরি হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক-কর্মচারী নেই। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থাও নেই। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীই এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে বলে আমিও শুনেছি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের ডেকেছি। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পাঠদান পরিচালনার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।’
প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, পৃথক শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা না গেলে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।