পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া কলেজে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। মানবিক বিভাগের ওই শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার নেমে এসেছে শূন্য শতাংশে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত মজিদবাড়িয়া কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন রাজু আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষায় একটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাঁর উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো কলেজের একমাত্র পরীক্ষার্থীর ফলাফলও হয়েছে অনুত্তীর্ণ।
একদিকে কলেজে আটজন শিক্ষক কর্মরত, অন্যদিকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মাত্র একজন—তার ওপর সেই শিক্ষার্থীরও অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার মান, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক ইকবাল জানান, “প্রতিষ্ঠার দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো পাকা একাডেমিক ভবন নেই। টিনশেড ঘরেই পরিচালিত হচ্ছে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম।”
তিনি আরও জানান, “এমপিওভুক্ত না হওয়া, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ভালো মানের শিক্ষার্থীরা এ কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। এর ফলে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিনিও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল স্থানীয়ভাবে শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়নের বিষয়টি সামনে এনেছে। দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্তি না হওয়া, নিজস্ব একাডেমিক ভবনের অভাব এবং শিক্ষার্থী সংকটের মতো সমস্যার সমাধান না হলে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।