পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে চারটি পাহাড়ি বন্য বানর উদ্ধার করেছেন এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যরা। এ সময় বানরগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খেলা দেখানোর অভিযোগে চার বাজিকরকে আটক করা হয়। পরে ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা দিলে বন বিভাগ তাঁদের ছেড়ে দেয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বন বিভাগের সহায়তায় কলাপাড়া শহরের ব্রিজসংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি বানরসহ ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

উদ্ধার করা বানরগুলোর প্রতিটির বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ বছর। আটক ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মো. মোস্তাক (৫০), মো. লোকমান (৪০), মো. লিটন মীর (৫৫) ও মো. কামরুল (৫০)। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে এসব বানর দিয়ে খেলা দেখিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযানে উদ্ধারকর্মী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ মুন্সী, এইচ এম মাসুদ হাসান, মো. আমিরুল ইসলাম ও আল সাঈদ। বন বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে বানরগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ মুন্সী বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বানরসহ চার বাজিকরকে আটক করা হয়েছে। বন বিভাগের সহায়তায় বানরগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

উদ্ধারকর্মী এইচ এম মাসুদ হাসান বলেন, “বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বানরগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।”

উদ্ধারকর্মী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বন্যপ্রাণী প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বন্য বানরকে দিয়ে খেলা দেখানো এবং তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা প্রাণীগুলোর জন্য ক্ষতিকর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগের সহায়তায় চারটি বানর উদ্ধার করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের মূল লক্ষ্য বানরগুলোকে নিরাপদ ও উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া। বন্যপ্রাণী রক্ষায় উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।”

অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না বলে মুচলেকা দেন। এরপর বন বিভাগ তাঁদের ছেড়ে দেয়। তবে উদ্ধার করা বানরগুলোকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

উল্লেখ্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০২৬ অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া বন্যপ্রাণী শিকার, লালন-পালন, আবদ্ধ রাখা, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ও জীবনযাত্রা সুরক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি।