সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খ্যাগড়াদানা রোডের ইসমাইলপুর স্টেডিয়াম মাঠ সংলগ্ন একটি সড়ক দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর ভাঙনের কারণে সড়কটির বড় একটি অংশ পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও ভেঙে গেছে রাস্তার কিনারা, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই দুর্ভোগের অবসান না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। ইসমাইলপুর স্টেডিয়াম মাঠ সংলগ্ন হওয়ায় সড়কটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এবং পুকুরের পাশে কোনো টেকসই প্রতিরক্ষামূলক গাইডওয়াল নির্মাণ না করায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন আরও শোচনীয় হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে সড়কের পুকুর সংলগ্ন অংশটি এখন পথচারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার একাংশ পুকুরে ধসে পড়ায় সংকুচিত হয়ে গেছে চলাচলের জায়গা। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টকর।

দিনের আলোয় কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও রাতের অন্ধকারে এই সড়ক যেন আতঙ্কের নাম। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পুকুরের পাশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় পথচারীদের। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা চললেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাঁদের। ফলে প্রতিদিনের দুর্ভোগই যেন এলাকাবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছি। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আমাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়। বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। রাস্তার একটি বড় অংশ পুকুরে চলে গেছে। কখন যে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। বারবার সমস্যার কথা জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই দ্রুত রাস্তার সংস্কার।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে মাটি বা ইট ফেলে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ, পুকুরের পাড়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক গাইডওয়াল নির্মাণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আবারও সড়কটি ভেঙে পুকুরে বিলীন না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশল বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল দশা শুধু যোগাযোগব্যবস্থার সংকট নয়, বরং এটি এলাকার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্যও এক বড় দুর্ভোগ। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।