গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় একটি সাবমারসিবল পাম্পের পাইপ দিয়ে পানি ওঠার পাশাপাশি গ্যাস বের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরাতেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে আগুন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাটির নিচে সত্যিই গ্যাসের কোনো উৎস রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার বান্ধবাড়ি ইউনিয়নের ভাসাই বাজারে বিভিন্ন মাছবাহী গাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য প্রায় এক বছর আগে সাবমারসিবল পাম্পটি স্থাপন করেন স্থানীয় হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী কামরুল শেখ। প্রায় ২৮০ ফুট গভীরতায় বসানো এই পাম্পটি দিয়ে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হতো।

তবে গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পটি দিয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পানি উঠছিল। বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হলে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পাম্পের পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরান কামরুল শেখ। এ সময় পাইপের মুখ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে বলে জানান তিনি। মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দেখতে কামরুলের দোকানের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভাসাই বাজারে কামরুল শেখের দোকানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই নিজেদের চোখে বিষয়টি দেখার জন্য সেখানে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের অনুরোধে কামরুল মাঝেমধ্যে পাম্পটি চালিয়ে পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরিয়ে আগুন জ্বলার বিষয়টি দেখাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, পাম্পের পানির সঙ্গে যে গ্যাস বের হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি আসলে কী ধরনের গ্যাস এবং এর উৎস কোথায়—তা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাতে ঘটনাটির খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দেখেছেন। তাঁরা চান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে পাম্পটি পরীক্ষা করুক। মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাসের কোনো উৎস রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সত্যিই গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে সেটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।

পাম্পটির মালিক কামরুল শেখ ভাসাই বাজার এলাকার রব শেখের ছেলে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন মাছবাহী গাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য প্রায় এক বছর আগে ২৮০ ফুট গভীরে এই সাবমারসিবল পাম্পটি বসিয়েছি। গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্প দিয়ে খুব কম পানি উঠছিল। বুধবার রাতে কৌতূহলবশত পাইপের মুখে গ্যাস লাইট ধরালে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অনেক মানুষ আমার দোকানের সামনে ভিড় করেন।”

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, “বিষয়টি জানার পর ওই এলাকার তহশিলদারদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

তবে পাম্পের পানির সঙ্গে বের হওয়া পদার্থটি প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক গ্যাস কি না, তা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় কৌতূহল বাড়লেও সম্ভাব্য গ্যাসের প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।