পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে মতি মাতব্বরের বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাঁর মেয়েদের দুই ভরির বেশি স্বর্ণালংকার ও ঘরে রাখা নগদ ১ লাখ টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। কষ্টার্জিত অর্থে কেনা স্বর্ণালংকার ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কোনো এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাতের আঁধারে চোরেরা বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে ঢোকে। পরে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি কেউ বুঝতে পারেননি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরে সিঁধ কাটা দেখতে পান। পরে ঘরের জিনিসপত্র খুঁজতে গিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। এতে মুহূর্তেই পরিবারটিতে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়।

মতি মাতব্বরের মেয়ের দাবি, তাঁদের দুই ভরির বেশি স্বর্ণালংকার এবং ঘরে রাখা নগদ ১ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। হঠাৎ এমন ক্ষতির মুখে পড়ে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করা অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার হারিয়ে তাঁরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ঘটনার পর মতি মাতব্বর, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কষ্টার্জিত সম্পদ হারিয়ে তাঁরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

এদিকে, একই রাতে কুমারখালী গ্রামের দোকানদার মোশাররফ মৃধার দোকানেও চুরির চেষ্টা চালানো হয় বলে জানা গেছে। তবে রাতে মোশাররফ মৃধা দোকানের ভেতরে অবস্থান করায় চোরেরা সেখানে চুরি করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

একের পর এক চুরির চেষ্টা ও চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাতের আঁধারে এমন ঘটনায় নিজেদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। তাঁরা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছে। এ সময় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পরিবারটি চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। চুরির সঙ্গে কারা জড়িত এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।