‘সঠিক জরিপ, সুরক্ষিত জমি, উন্নত বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী মৌজায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। জমির সঠিক পরিমাপ, নির্ভুল রেকর্ড প্রণয়ন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পটুয়াখালী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আয়োজনে এ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী আশরাফুল করিম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পটুয়াখালী জোনের ভারপ্রাপ্ত জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. আল-মুক্তাদির হোসেন। ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমের সম্ভাবনা, গুরুত্ব ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সার্ভেয়ার (গ্রেড-১) মো. জাহিদ হোসেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শরিফ মো. সালাউদ্দিন, জেলা শিক্ষা অফিসার মুহা. মুজিবুর রহমান, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. রুবেল হোসাইন এবং সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) মো. আব্দুল্লাহ ইউসুফ।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহসীন উদ্দীনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে জমির সঠিক পরিমাপ ও নির্ভুল রেকর্ড প্রণয়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ, খতিয়ানে ভুল, জমির পরিমাণে অসংগতি এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

তাঁরা আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এ জরিপ কার্যক্রম ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জমির মালিকদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমাতে সহায়ক হবে। সঠিকভাবে জরিপ সম্পন্ন হলে জমির মালিকানা ও সীমানা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে ভূমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম সফল ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে জমির প্রকৃত মালিকদের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরিপের শুরু থেকে খসড়া রেকর্ড যাচাই, আপত্তি ও আপিল দাখিল এবং চূড়ান্ত পর্চা সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জমির মালিকদের সতর্ক থাকতে হবে।

মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলাকালে জমির পরিমাণ বা সীমানায় কোনো অসংগতি দেখা গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট জরিপ কর্মীদের অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে প্রচলিত বিধি ও নির্ধারিত সরকারি ফি অনুসরণ করে পুনরায় জমি পরিমাপের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।

এ ছাড়া জমির মালিকানা বা সীমানা নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপত্তি বা বিরোধ সংক্রান্ত আবেদন (ডিসপিউট) দাখিল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। তাঁদের মতে, সময়মতো তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ভুল রেকর্ডের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

সভায় সরকারি জমি যথাযথভাবে রেকর্ডভুক্ত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জরিপ কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় জনগণ ও জমির মালিকদের সম্মিলিত সহযোগিতায় পটুয়াখালী মৌজায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি জমির মালিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে আনার পথ আরও সুগম হবে।