পটুয়াখালীর গলাচিপায় লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আতশবাজি ফোটানোর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অমিত হাজারি (১৮) নামে এক কিশোরের হাতের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে তাঁর হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর হাত রক্ষা করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অমিত ওই গ্রামের অর্জুন হাজারির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আনন্দ-উল্লাসের একপর্যায়ে আতশবাজি ফোটাতে গেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অমিতের হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) পাঠানো হয়।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, “অমিতের হাতে ‘ডিগ্লোভিং ইনজুরি’ হয়েছে, যাতে ত্বক ও নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের কারণে তাঁর হাতের অবস্থা গুরুতর। হাতটি রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আনন্দ-উল্লাসের সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

আতশবাজি ফোটানোর সময় অসতর্কতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, গলাচিপার এ ঘটনা তারই একটি দৃষ্টান্ত। উৎসবের আনন্দ যেন কারও জীবনে স্থায়ী দুর্ভোগের কারণ না হয়, সে জন্য আতশবাজি ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি।