বরিশালের উজিরপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে (৩৭) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন নামে আরও এক যুবদল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকার একটি ব্রিজের ওপর কাওসার হাওলাদার, রাশেদ আমিনসহ কয়েকজন যুবদল কর্মী দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাসে করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কাওসার ও রাশেদ আমিন ব্রিজ থেকে নিচের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে তারা সেখান থেকে উঠে পাশের হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি কাওসারের।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কাওসারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় রাশেদ আমিনও গুরুতর আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে কাওসারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিহত কাওসার হাওলাদার সাতলার আলামদী গ্রামের মোনাসেফ হাওলাদারের ছেলে। পেশায় তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।