বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নেওয়া এবং মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর গাজীও।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালী পৌর শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁর দ্বিতীয় তলায় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঐ নারী অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম কালিকাপুর এলাকার সয়েজউদ্দিন গাজীর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গাজী বিভিন্নভাবে তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পরিচিত হন। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি যে ভাড়া বাসায় থাকতেন, সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঐ নারীর দাবি, ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়। এ সুযোগে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি কাজ দেওয়া ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে আদালত প্রাঙ্গণে বিয়ের বিষয়ে একটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করা হলেও যথাযথভাবে কাবিন নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত পরে তাঁকে বিয়ে না করে অন্যভাবে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রস্তাব দেন।

এ ছাড়া একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন নারী প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রতিকার না পেয়ে তিনি পটুয়াখালীর আদালতে জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে মামলা করার পরও তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, মামলা তুলে নিতে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গাজীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘হানিট্র্যাপের শিকার’ বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ওই নারীর আগে তিনটি বিয়ে হয়েছে এবং সেগুলোর কোনোটি বিচ্ছেদ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত কিছু নথি তাঁর হাতে রয়েছে বলেও জানান জাহাঙ্গীর।

তিনি আরও বলেন, ছুটির পর প্রমাণসহ সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের নথি, মামলার বর্তমান অবস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং আইনগত দায় নিরূপণ সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।