পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে আমন ধানের জমিতে কীটনাশক ও বালাইনাশকের অনিরাপদ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে দুটি গরু ও একটি মহিষের মৃত্যুর ঘটনায় বিষক্রিয়ার সন্দেহ করছেন পশুর মালিকেরা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করা হয়েছে। তবে পশুগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষিজমিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়া, দূষিত পানি পান এবং বিষাক্ত ঘাস খাওয়ার মাধ্যমে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমন ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের দানাদার ও তরল বালাইনাশক ব্যবহার করেন। এসব বালাইনাশকের কোনো কোনোটিতে উচ্চমাত্রার বিষাক্ত উপাদান থাকে। নির্ধারিত মাত্রা ও নিয়ম অনুসরণ না করে এসব ওষুধ প্রয়োগ, ব্যবহারের পর খালি বোতল ও প্যাকেট যত্রতত্র ফেলে রাখা এবং বিষমিশ্রিত পানি জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাববুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস ফকিরের দুটি গরু মারা যায়। তাঁর সন্দেহ, বিষক্রিয়ার কারণে গরু দুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।

একই ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের আমির গাজীর একটি মহিষও মারা গেছে। এ ঘটনায়ও বিষপ্রয়োগের সন্দেহে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে গরু ও মহিষের মৃত্যুর সঙ্গে বালাইনাশকের বিষক্রিয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বালাইনাশকের সঠিক ব্যবহার, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের পর অবশিষ্ট বোতল ও প্যাকেট যথাযথভাবে অপসারণের বিষয়ে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বালাইনাশক প্রয়োগের পর লেবেলে উল্লেখিত নিরাপদ সময় পর্যন্ত জমিতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির প্রবেশ বন্ধ রাখতে হবে। বিষাক্ত উপাদান যাতে খাল-বিল, পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমন ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের দানাদার ও তরল বালাইনাশক ব্যবহার করেন। এসব বালাইনাশকের বিষক্রিয়ায় দূষিত পানি পান করলে কিংবা বিষাক্ত উপাদানযুক্ত ধানের চারা ও ঘাস খেলে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি বিষক্রিয়ায় প্রাণহানিও ঘটতে পারে।”

তিনি বলেন, “বালাইনাশক প্রয়োগের সময় কৃষকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জমির বিষমিশ্রিত পানি যাতে খাল, বিল, পুকুরসহ অন্য কোনো জলাশয়ে মিশতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বালাইনাশক প্রয়োগের পর লেবেলে উল্লেখিত নির্ধারিত নিরাপদ সময় পার না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।”

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, “বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ওষুধ নির্বাচন, সঠিক নিয়ম ও নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করা জরুরি। ব্যবহারের পর খালি বোতল ও প্যাকেট যত্রতত্র ফেলে না রেখে পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদে অপসারণ করতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি গবাদিপশুর ঝুঁকিও হ্রাস করা সম্ভব হবে।”