পটুয়াখালীতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে মহিলা দলের দুই নেত্রীর নাম উল্লেখ করে স্থানীয় একটি অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রুমা এবং সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি তানিয়া আক্তার। প্রকাশিত সংবাদটিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর নিন্দা জানান তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা ইয়াসমিন রুমা বলেন, ‘পটুয়াখালীতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ মহিলা দলের দুই নেত্রী’ শিরোনামে প্রকাশিত ভিডিও সংবাদে তাঁকে জড়িত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং এ ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানান এই নেত্রী।
অন্যদিকে, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও পটুয়াখালীর নিউমার্কেট কাঠ ব্যবসায়ী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি তানিয়া আক্তার সমিতির ঋণসংক্রান্ত বিরোধের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সমিতির ৬৩১ নম্বর সদস্য শওকত প্রায় আট বছর আগে সমিতি থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নেন। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের কথা থাকলেও তাঁর দাবি অনুযায়ী, কয়েকটি কিস্তি পরিশোধের পরও ওই সদস্যের কাছে দুই লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা রয়েছে।
তানিয়া আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে পটুয়াখালীর পিডিএসএ মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে শওকতের দোকানে সমিতির কর্মীরা কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য যান। এ সময় শওকত ও তাঁর স্ত্রী খাদিজা আক্তার রুমার সঙ্গে সমিতির কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দোকানে গেলে শওকত ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ, একপর্যায়ে শওকতের নির্দেশে তাঁর স্ত্রী লাঠি নিয়ে তাঁকে আঘাত করার উদ্যোগ নেন। এ সময় সমিতির অন্য সদস্য ফরিদা বেগম, হাসিবুর রহমান ও পারুল বেগম এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করেন বলে জানান তিনি।
তানিয়া আক্তার আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর শওকত তাঁকে পথে-ঘাটে পেলে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগের কথা তুলে ধরে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি রানু আক্তার, সদস্য রুবি আক্তার, পারুল বেগম, শায়লা সিকদার, সুমনা রুমা ও রহিমা বেগমসহ সংগঠনটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদকের নোট: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শওকত ও তাঁর স্ত্রী খাদিজা আক্তার রুমার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।