পটুয়াখালীর গলাচিপায় চালু অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে ইলেকট্রিক মোটরচালিত ফুচকা ও ঝালমুড়ি বিক্রির একটি গাড়ি। এ সময় গাড়িটির কাছে থাকা পাঁচ শিশুশিক্ষার্থীও পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে গলাচিপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডে পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের সামনে ফুচকা ও ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। এ সময় চালু থাকা অবস্থায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। গাড়িটির কাছে ফুচকা ও ঝালমুড়ি কিনতে আসা পাঁচ শিশুশিক্ষার্থীও পানিতে পড়ে যায়।
ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুদের পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর কয়েকজন শিশু অসুস্থ বোধ করে এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে গলাচিপা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁরা পুকুরে পড়ে যাওয়া ফুচকা ও ঝালমুড়ি বিক্রির গাড়িটি উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সামনে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে যত্রতত্র ভ্রাম্যমাণ দোকান ও যানবাহন রাখার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের চলাচল ও কেনাকাটার সময় এমন পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ভ্রাম্যমাণ খাবারের গাড়ি রাখার জন্য নিরাপদ স্থান নির্ধারণ, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সতর্কতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আশপাশে শিশুদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সামান্য অসাবধানতায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এমন দুর্ঘটনায় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়।