পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার পরিদর্শনে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাখাইন সম্প্রদায়। বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিনকে মারধরের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে বিহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পর সেখানে ঘুরতে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

বিহারের মহাথেরো উত্তম ভিক্ষু জানান, গত মঙ্গলবার সকালে বিহার সীমানার মধ্যে একটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন বিহার কর্তৃপক্ষ। এ সময় স্থানীয় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম বিহারের ভেতরে জমির মালিকানা দাবি করে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মংলাচিন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।”

উল্লেখ্য, কুয়াকাটার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার। শত বছরের পুরোনো এ বিহারে রয়েছে অষ্টধাতুতে নির্মিত প্রায় ৩৭ মণ ওজনের গৌতম বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন মূর্তি। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থী বিহারটি দেখতে আসেন। বিহারটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে পর্যটকদের ভ্রমণেও প্রভাব পড়েছে।