সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পঞ্জিকা ও পূজা নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর (২৮ আশ্বিন) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ২১ অক্টোবর (৩ কার্তিক) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসব।

এ বছর পটুয়াখালী জেলার আটটি উপজেলায় মোট ১৯২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে বাউফল উপজেলায়, আর সবচেয়ে কম রাঙ্গাবালী উপজেলায়।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২৭টি, বাউফলে ৬৮টি, গলাচিপায় ২৯টি, মির্জাগঞ্জে ১৮টি, দশমিনায় ১৮টি, কলাপাড়ায় ১৫টি, দুমকিতে ১১টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ছয়টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। কোথাও প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় দেওয়া হচ্ছে, কোথাও চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় আলোকসজ্জার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিদ্যুৎকর্মীরা।

অন্যদিকে, পূজামণ্ডপ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও উৎসবের আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে অর্থ সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যরা। বিভিন্ন দোকানপাট ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা চাইছেন তাঁরা। উৎসবকে ঘিরে কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন দর্শনার্থীরাও। নতুন পোশাক কেনার পাশাপাশি দেবী দুর্গার পূজার্চনায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

এদিকে, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ লক্ষ্যে পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অর্থ) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পূজামণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।

সব মিলিয়ে, প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মণ্ডপ সাজসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উৎসবের দিনগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের প্রত্যাশা করছেন আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।