পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নে তিন স্কুলশিক্ষার্থীসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টার মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য এবং সচেতন যুব সমাজের প্রতিনিধিরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ধরান্দী বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা মামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে স্থানীয় সচেতন যুব সমাজের প্রতিনিধি সোহেল মল্লিক দাবি করেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় ঘটনার তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ এবং মামলা দায়েরের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলায় শিক্ষার্থীদের বয়সের তথ্যের সঙ্গে তাঁদের জন্মনিবন্ধনের তথ্যের অসংগতি রয়েছে।

এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন মৃধা, কাসেম প্যাদা, রফিক মৃধা, ইউনুস মৃধা, শেফালী বেগম, শাহানারা বেগম ও গনি আকনসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে তাঁরা জানেন। তবে মামলার অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও তাঁদের সহপাঠীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুস সালাম মৃধা বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে বিস্তারিত জানতেন না। তবে তিন স্কুলশিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথা শুনেছেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং এর আগে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তা মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি তাঁর ওয়ার্ডের হলেও মানববন্ধনের আগে তিনি বিষয়টি জানতেন না। তাঁর মতে, মামলার বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। যেহেতু বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে, তাই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটন করা উচিত।

এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি।

প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ: মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মামলার অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।