পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গৃহবধূকে হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসমী হালিম রাঢ়ীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও তার স্ত্রী পুষ্প বেগমকে ১০ বছর সশ্রম করাদন্ডাদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও জজ মো. শহিদুল্লাহ।
জানা গেছে, বাউফলের মধ্য কেশবপুরে গৃহবধূ রানী বেগমকে হত্যার দায়ে দোষী স্বাব্যস্ত করে প্রতিবেশী হালিম রাঢ়ী (৫০)-কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস সশ্রম কারাদন্ড এবং তার স্ত্রী পুষ্প বেগম (৪৫)-কে দশ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাস কারাদন্ড দিয়েছে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জনাকীর্ণ আদালতে বিজ্ঞ বিচারক মো. শহীদুল্লাহ উক্ত রায় প্রদান করেন।
মামলার নথি পর্যালোচনা ও পরিচালনাকারী আইনজীবীদের সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে বাউফলের মধ্য কেশবপুর গ্রাম নিবাসী বাদী আবুল কাশেম রাঢ়ীর সাথে আসামীদের রাস্তার পাশে লাউ গাছের চারা লাগানো নিয়ে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়।
পরদিন ১২ ডিসেম্বর (১২.১২.২০২০ইং) সকাল সাড়ে ৬ টায় পুর্ব বিরোধের জের ধরে বাদীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সদস্যদের উপর আসামী হালিম রাঢ়ি ও তার স্ত্রী পুষ্প বেগম হামলা চালায়। হালিম রাঢ়ির হাতে থাকা বাংলা দাও ও পুষ্প বেগমের হাতে থাকা লাঠির আঘাতে বাদির স্ত্রী রানী বেগম গুরুতর আহত হলে তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার রানী বেগমকে মৃত ঘোষনা করেন।
ওই দিনই নিহতের স্বামী কাশেম রাঢ়ী বাদী হয়ে প্রতিবেশী হালিম রাঢ়ী ও তার স্ত্রী পুষ্প বেগমকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৪.৫.২১ইং তারিখ আদালতে অভিযোপত্র দাখিল করে। ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনের স্বাক্ষী শুনানী শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক উক্ত রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষনার সময় ১নং প্রধান আসামী হালিম রাঢ়ি উপস্থিত থাকলেও ২নং আসামী পুষ্প বেগম পলাতক ছিল। পুষ্প বেগম গ্রেপ্তারের দিন থেকে এই সাজা কার্যকর হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন।
আসামী পক্ষে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ছিলেন অ্যাড. রেজাউল করিম রেজা।