পটুয়াখালীর দশমিনায় মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়া এক শিক্ষার্থীকে খুঁজে ফেরার সময় দুই মাদ্রাসা ছাত্রের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় তানভীর হোসেন (১৩) ও মোহাম্মদ রাব্বি (১২) নামে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার সময় উপজেলার রংগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ যৌতা ভেলি ব্রিজ সংলগ্ন হাওলাদার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তানভীর হোসাইন পিতা কবির হাওলাদার এবং মোঃ রাব্বি পিতা জামাল মৃধা তারা উভয়েই দক্ষিণ যৌতা মাদ্রাসাতুল কুরআন আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি আব্দুস শাকুর অভিযোগ করে বলেন, “ফজরের নামাজের সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মসজিদে গেলে মাইনুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে তাকে খুঁজে বের করতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মাইনুলকে খুঁজে পেয়ে তার পিছু নিলে সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে মাদ্রাসায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে।”

তিনি আরও বলেন, “ওই সময় মাইনুল রাস্তায় শুয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার জহিরুল ইসলাম চান মিয়া ও সাইদুল নামে দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

মুফতি আব্দুস শাকুর বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

আহত শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, “আমরা মাইনুলকে ধরে নিয়ে আসছিলাম। এ সময় সে চিৎকার দিলে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার জহিরুল ইসলাম চান মিয়া নামক ঐ ব্যক্তি এসে আমাদের ওপর হামলা করে।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম্য ডাক্তার জহিরুল ইসলাম চান মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ। বিষয়টি এলাকার লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করছিলো। আমি সেখানে গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে দিই। কাউকে মারধর বা হামলা করিনি।”

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমাকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”