পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড  জলিশা গ্রামে মকবুল হোসেনের মুদি দোকানের পাকারাস্তার সামনে দুটি ষাড় গরু ক্রয় কালে ১ হাজার টাকা মূল্যের ১ লাখ টাকার জাল নোটসহ শামীম নামের এক ব্যক্তিকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন স্পেশাল ট্রাইবুন্যাল আদালত।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) পটুয়াখালীর স্পেশাল ট্রাইবুন্যাল আদালত এ আদেশ জারি করেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলিশা গ্রামের হাটে দুটি ষাঁড় গরু কেনার সময় বিক্রেতাকে ১ হাজার টাকার নোটে মোট ১ লাখ টাকা প্রদান করেন শামীম। টাকা গণনা ও যাচাই করার সময় নোটগুলোর কাগজ ও ছাপায় সন্দেহ হলে উপস্থিত স্থানীয় জনতা তা পরীক্ষা করে জাল নোট হিসেবে শনাক্ত করে। বিষয়টি টের পেয়ে শামীম ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে এবং দ্রুত গলাচিপা থানা পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকৃত ১ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করে এবং শামীমকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জাল টাকা লেনদেনের অভিযোগে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং জি,আর ১৯৮/২০২০ ইং।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামী শামীম পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের মোঃ সোবাহান সরদারের ছেলে।

এই মর্মে এজাহার দায়ের করেন যে, তিনি গলাচিপা থানার জিডি নং-৫৮৭, তারিখ ১৬/০৬/২০২০ ইং মূলে অফিসার ও ফোর্স সহ গলাচিপা থানা এলাকায় গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল ও বিশেষ অভিযান ডিউটি করাকালীন ইং ১৬/০৬/২০২০ তাং রাত্র ০৭:২৫ ঘটিকার সময়ে তেতুলতলা বাজারে অবস্থান কালে অফিসার ইনচার্জ মোবাইল ফোনে জানান যে, গলাচিপা থানাধীন চিকনিকান্দী ইউনিয়নস্থ ৮নং ওয়ার্ড পানখালী সাকিনের জনৈক মকবুল হোসেন খান এর মুদি মনোহরী দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর স্থানীয় লোকজন জালটাকা সহ একজনকে আটক করিয়া রাখিয়াছে।

উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিলে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ ইং ১৬/০৬/২০২০ তারিখ রাত ০৭: ৫৫ ঘটিকায় বর্নিত স্থানে পৌঁছাইয়া কতিপয় লোকজন দ্বারা একজন লোককে চারিদিক থেকে ঘিরিয়া রাখা অবস্থায় দেখিতে পাইয়া উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তাহারা জানায় যে, স্থানীয় মোঃ আল আমিন (২৫), তাহার পালিত দুটি ষাড় গরু ইং ১৬/০৬/২০২০ তারিখ দুপুর বেলা চিকনিকান্দী বাজারে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিয়া যায়। বাজারে ষাড় দুইটির দাম কম বলায় গরুর মালিক বিক্রি না করিয়া ষাড় দুইটি বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা করিয়া বর্নিত স্থানে পৌছাইলে উক্ত আটককৃত ব্যক্তি আসিয়া জিজ্ঞাসা করে যে, ষাড় দুটি বিক্রয় করিবে কিনা। আল আমিন তখন ষাড় বিক্রয়ের ইচ্ছা পোষন করিলে তাহাদের মধ্যে কথাবর্তার এক পর্যায়ে ষাড় দুইটির দাম ৯৭,০০০/-টাকা ধার্য্য হয়।

উক্ত সময়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হইলে ধৃত ব্যক্তি তাহার প্যান্টের পকেট হইতে একটি এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল বাহির করিয়া নিজে টাকা গননা করিয়া আল আমিনকে দেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন টাকা গুলো জাল টাকা বলিয়া সন্দেহ করিয়া আসামীকে জাল টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে আসামী প্রথমে উল্টাপাল্টা কথা বলে। এক পর্যায়ে আসামী দৌড়াইয়া পালাইয়া যাবার চেষ্টা করিলে উপস্থিত লোকজন তাহাকে ধৃত করেন। বাদী উপস্থিত লোকজনের সম্মুখে ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে অবশেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামি শামীমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায় প্রদান করেন। অনাদায়ে তাকে আরও অতিরিক্ত মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ব্যপারে পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সরকারি পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন বলেন, “এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এটা সামাজিকভাবে দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ হয়ে থাকবে।”