‘জুলাই অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এখনো জুলাই যোদ্ধারা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমরা জাতি হিসেবে এই জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুবিধা অসুবিধা দেখব এটিই আমাদের আজকের প্রতিজ্ঞা।”
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে সুরের মুর্ছনায় ধরে রাখতে ‘গানে গানে জুলাই’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বানিজ্য মন্ত্রী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই আগষ্টের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সবাই যুক্ত ছিল। শুরুতে তখন এটি একটি প্রতিবাদ ছিল এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছেলেরা মাঠে নেমেছিল খালি হাতে। তারা তাদের অধিকার, গনতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছিল। সে সময়ের ফ্যাসিষ্ট সরকারের ফ্যাসিষ্ট প্রধানমন্ত্রী ছাত্র-জনতার যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য দাবী পূরন না করে তাদেরকে রাজাকারের বাচ্ছা বলে আন্দোলনকে আরো উস্কে দিয়েছে কিন্তু তারা হাল ছাড়েনি। ফ্যাসিষ্ট সরকারের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ছিল হত্যা করে, গুলি চালিয়ে নির্দয়ভাবে আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। আন্দোলন পরবর্তী জাতিসংঘ একটি জরিপ করে ১৪০০ শহীদের এবং আহত অসংখ্য জুলাই যোদ্ধার তালিকা করেছে।”
জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জুয়েল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধা সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক, গণসংগীত ও জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। সুর ও সংগীতের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা শিল্পীদের পরিবেশনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
আয়োজকরা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।