র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুন, ধর্ষন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প ২৪ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ র্যাব-১১, সদর কোম্পানী, নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্প এর সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জুলকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকা হতে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক অভিযুক্ত মোঃ সালেক (৪০), পিতা- মৃত মোজাহার, সাং- নয়াকাটা, থানা- মহিপুর, জেলা- পটুয়াখালী’কে এবং ২৫ জুলাই ২০২৬ইং তারিখ র্যাব-১, সিপিসি-৩, পূর্বাচল ক্যাম্প এর সহায়তায় ঢাকা জেলার গুলশান থানাধীন আজাদ মসজিদ এলাকা হতে অভিযুক্ত মো: ছারোয়ার(৩৫), পিং-ইউনুচ মিয়া, সাং-নয়াকাটা, থানা-মহিপুর, জেলা-পটুয়াখালী’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মামলার এজাহারের বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত মোঃ সালেক ও মো: ছারোয়ার সহ অন্যান্ন অভিযুক্তদের সাথে ভিকাটিম হারিচ আহম্মদ @ মজিবুর (৬৫) এর জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে বিরোধ চলে আসছিলো। গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১০:১৫ ঘটিকায় অভিযুক্তরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বে-আইনী জনতাবদ্ধে লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বৌলতলী মৌজায় ভিকটিমের ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে পরস্পর যোগসাজসে অনধিকার প্রবেশ করতঃ জোরপূর্বক ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ শুরু করে। ভিকটিম অভিযুক্তদের জমি চাষাবাদ করতে নিষেধ করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল উপস্থিত হওয়া মাত্রই অভিযুক্তগণ একে অপরের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্র দ্বারা ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতঃ ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০২:০০ ঘটিকায় ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে পটুয়াখালীর মহিপুর থানায় একাট হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য যে, নির্মম এই হত্যাকান্ডের পর থেকেই র্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধীদ্বয় অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং তাদের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে অপরাধীদ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মোঃ সালেককে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এবং মোঃ সারোয়ারকে ডিএমপির গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।