দাঁত উঠানো এবং দাঁতের প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া আর কোন চিকিৎসা হয় না পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল ইউনিটে। দুজন ডেন্টাল সার্জন থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দন্ত বিভাগ। দাঁতের জটিল রোগের চিকিৎসা তো দূরের কথা, রোগীদের কেবল দাঁত উঠানো ও ছোটখাটো প্রাথমিক চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ দন্ত বিভাগ । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন দৈন্য দশা বছরের পর বছর দেখে হতাশ সেবা গ্রহীতরা। ফলে সরকারি হাসপাতালে আধুনিক দন্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল ইউনিটে তিনজনের মধ্যে একজন ডেন্টাল সার্জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জনের পদও রয়েছে। সম্প্রতি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টের (ডেন্টিস) পদটি শূণ্য রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় তাদের দক্ষতা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরাও অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়ছেন। ফলে প্রায়ই তাদেরকে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বিকল প্রায়। এছাড়া ডেন্টাল এক্স-রে (আইওপিএ) মেশিন, স্কেলিং মেশিন, রুট ক্যানেল চিকিৎসার সরঞ্জাম, আধুনিক ডেন্টাল চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। ফলে দাঁতের স্থায়ী ফিলিং, স্কেলিং, রুট ক্যানেল, জটিল সংক্রমণসহ অধিকাংশ চিকিৎসাই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এখানে।
গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী পৌর এলাকার তরিকুল ইসলাম মুন্না বলেন, “দাঁতের ব্যথা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু নুন্যতম ওয়াসই করতে পারেনি। তাদের ইলিকট্রিক চেয়ারটিই নাকি বিকল।তাই বাধ্য হয়ে আবার হাতুড়ে ডাক্তারের কাছেই যেতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “দাঁতের চিকিৎসা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল। কিন্তু ডেন্টাল ইউনিটটি অত্যন্ত নোংড়া, অপরিস্কার। এখানে মুখ খুলতেও অস্বস্তিবোধ হয়।”
গলাচিপা পৌর এলাকার নিতাই সাহা বলেন, “সরকারের স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত বিভাগকে আধুনিকায়ন করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে বিকল যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত, প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দন্ত বিভাগের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত বিভাগের সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার সাবিকুননাহার লিজা বলেন, “আমরা দাঁত তোলা ছাড়া এখানে আর কোন চিকিৎসা দিতে পারছি না। আমাদের চেয়ারে সমস্যা আছে, অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট। এ বিষয়গুলো আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরে টেকনিশিয়ান দিয়ে মেরামত করা হলেও একদিন পর আবার নষ্ট হয়ে যায়। আবার টেকনিশিয়ানকে জানালে তিনি জানিয়ে দেন-অনেক দিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে এখন আর এ যন্ত্রপাতি মেরামত করা সম্ভব নয়।”
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত বিভাগের ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এখানে টেমপোরারি ফিলিং করার মেডিসিন থাকলেও স্থায়ী ফিলিং করার মেডিসিন নেই। এখানে স্থায়ী ফিলিং এর চাহিদা থাকলেও সহসাই সেবা দিতে পারছি না। রুটক্যানেল চিকিৎসার কোন যন্ত্রপাতি ও মেডিসিনসহ কোন কিছুই আমাদের নেই।”
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। কিন্তু জটিল কিছু চিকিৎসা সেবা এখন দিতে পারছি না। আমাদের ডেন্টাল এক্সরে মেশিন ও সাকার মেশিনসহ আরো উন্নত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন রয়েছে। তাই এ ইউনিটে দুজন সার্জন থাকলেও রোগীদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”