ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহাদিপুর মৌজায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় সম্পত্তির গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৬ জুলাই রাতে মৃত মুজাহার জোমাদ্দারের ছেলে আব্দুল ওয়াহেদ জোমাদ্দার ঝালকাঠি সদর থানায় ১৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মহাদিপুর মৌজার আরএস ২/৪/৫/২০/১২০/১৯১ এবং এসএ ১/৯/১৯৩/৪৯ নম্বর খতিয়ানের মোট ৩৪ একর ৫৪ শতাংশ জমি তিনি মালিকানা সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-১৩৬/২০০৭) বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের ২৭ আগস্ট আদালত মামলাটি চলমান রেখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৬ জুলাই সকালে বিবাদীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেয় এবং জমিতে চাষাবাদ শুরু করে। এতে বাধা দিতে গেলে তারা গালিগালাজ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে রাজাপুর গ্রামের হেমায়েত বেপারী, গিয়াস বেপারী, রিয়াজ বেপারী, পলাশ বেপারী, মো. বেল্লাল বেপারী, মো. হেলাল বেপারী, সাইদুল বেপারী, সাইফুল ইসলাম ওরফে বেলায়েত বেপারী, সাখায়াত বেপারী, লিটন বেপারী, আকাব্বর বেপারী, এনায়েত মুন্সিসহ মহাদিপুর গ্রামের খলিল হাং ও ইয়াকিন হাওলাদারকে।

ঝালকাঠি সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পারভেজ সাংবাদিকদের জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে কিছু গাছ ও ডালপালা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াহেদ জোমাদ্দার অভিযোগ করে বলেন, “অভিযুক্তরা প্রভাবশালী এবং বেআইনিভাবে জমি ও গাছপালা দখলের চেষ্টা করছে।” আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত রিয়াজ বেপারী ও সাইফুল ইসলাম (বেলায়েত) বেপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমির বৈধ মালিকানার কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে এবং বর্তমানে ওই জমির ওপর কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই।” সুযোগ পেলে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করবেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য, জমিটির মালিকানা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উভয় পক্ষ পরস্পরবিরোধী দাবি করেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।