পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে মশার কয়েল থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি গবাদিপশু জীবন্ত পুড়ে মারা গেছে। এ সময় আগুন থেকে গবাদিপশুগুলোকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন রুবেল তালুকদার (২৫) নামের এক যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর তালুকদারের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওই রাতেও গোয়ালঘরে মশার উপদ্রব কমাতে কয়েল জ্বালানো হয়েছিল। গভীর রাতে কয়েলের আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে গোয়ালঘর থেকে তা পাশের রান্নাঘরেও চলে যায়। টের পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। তবে ততক্ষণে গোয়ালঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ঘটনাস্থলেই তিনটি গরু পুড়ে মারা যায় এবং বাকি দুটি গরুর শরীরও গুরুতরভাবে ঝলসে গেছে, যেগুলোর অবস্থাও বর্তমানে আশঙ্কাজনক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহাঙ্গীর তালুকদার বলেন, “চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে গেল। গোয়ালঘর থেকে গরুগুলো বের করতে গিয়ে আমার ছেলে রুবেল মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। এখন ছেলের জীবন আর বাকি দুটি গরুর চিকিৎসা নিয়ে আমি দিশেহারা।”

অগ্নিদগ্ধ রুবেল তালুকদারকে প্রথমে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শরীরের একটি বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় এবং অবস্থার অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ যুবকের চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

গ্রীষ্ম ও বর্ষার এই মৌসুমে গ্রামীণ এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়ায় গোয়ালঘরে কয়েল বা ধোঁয়া (তাওঁ) ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা জানান, অসাবধানতাবশত কয়েল জ্বালিয়ে রাখায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। গোয়ালঘরে কয়েল ব্যবহারের সময় চারপাশে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘুমানোর আগে তা নিভিয়ে ফেলা বা নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।