পটুয়াখালীর গলাচিপায় তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার দৈনিক সবার আগে পত্রিকার সাংবাদিক
আহত রাকিবুল আল ইসলাম (২৮) গলাচিপা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া বাজারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী জালাল হাওলাদার এর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জালাল হাওলাদারের ছেলে ইমাম হাওলাদারসহ তাদের বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত গণমাধ্যম কর্মী রাকিবুল আল হাসান। মঙ্গল বার (২৩ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক হলেন দৈনিক সবার আগে পত্রিকার গলাচিপা উপজেলা প্রতিনিধি রাকিবুল আল ইসলাম । আহত রাকিবুল আল ইসলাম গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাকিবুল আল ইসলাম বলেন, “মৎস্য ব্যবসায়ী জালাল হাওলাদার টাকার জন্য এক ব্যক্তিকে রাস্তায় মারধর করে। আমি ছবি সংগ্রহ করতে গেলে আমাকে লাঞ্ছিত করে । এর আগে তার কাছে এসব বিষয়ে তথ্য চাওয়া হলে তিনি অভিযোগকারীকে দেখে তথ্য দেওয়ার কথা বলে এড়িয়ে যান।”
রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, “জালাল হাওলাদার এর ছেলে ইমাম হাওলাদার আমাকে বলে বড় বড় সাংবাদিকেরা আমার ধারে-কাছেও আসে না, আর তুই আমার কাছে তথ্য চাইতে আসছস! এবার তোকে ভালো করে তথ্য দেব।” এটা বলে হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন।পরে আমার ডাক-চিৎকারে লোকজন এসে পড়লে মারধর কারিরা পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “আমার চিকিৎসাধীনে সাংবাদিক রাকিবুল আল হাসান দ্বিতীয় তলার পাঁচ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছে। তার মাথায় সেলাই লেগেছে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলো যখম হয়েছে।”
আহত রাকিবুল আল হাসানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ছেলেকে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে উলানিয়া চৌরাস্তায় ফেলে ইমাম হাওলাদার সহ আরো অনেকে মারধর করেছে। আমি এদের বিচার চাই।”
রাকিবুলের বন্ধু সুদেব দেবনাথ বলেন, “গণমাধ্যম কর্মীকে মারধর করায় আমরা লজ্জিত।” ডাকুয়ার সাগর বলেন, “তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আজ সাংবাদিক লাঞ্ছিত আসলে এটা লজ্জার ব্যাপার। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
প্রতিপক্ষ জালাল হাওলাদার ও তার ছেলে ইমাম হাওলাদারের মুঠো ফোনে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “রাকিবুল আল হাসান আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আসলেই তাদের পরিবার ভালো মনের লোক। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মী চৌরাস্তায় লাঞ্ছিত হয়। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি দেখব।”
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”