পটুয়াখালীর গলাচিপায় বাক প্রতিবন্ধী জসিম জমাদ্দার (৪৫) নামে একজনকে মারধর করেছে মাহাবুব উদ্দিন (২৭) ও জাফর (৪৫) নামের দুই যুবক ও তার সহযোগীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরকারফার্মা গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে চর কারফার্মার বনবিভাগের গাছবনে।
আহত প্রতিবন্ধীর স্ত্রী রেশমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী বোবা প্রতিবন্ধী, তাকে মারধর করেছে, আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
বাক প্রতিবন্ধী আহত জসিম জমাদ্দারের বড় ভাই বশির জমাদ্দার জানান, “প্রতিদিনের ন্যায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাছ বনে আমার ভাই বাক প্রতিবন্ধী জসিম জমাদার ঝারাবেড় দিয়ে মাছ ধরতে গেলে আমাদের একই গ্রামের মাহবুব ও জাফর এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে এলাকাবাসী আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে।”
বাক প্রতিবন্ধী জসিম জমাদ্দারের মেয়ে শিল্পী বেগম বলেন, “আমার বাবাকে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে, আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।”
প্রতিবন্ধী আহত জসিম জমাদার এর বাবা আব্দুর রব জমাদার বলেন, “আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে এলাকাবাসী দেখে ফেলায় মারধরকারীরা পালিয়ে যায়। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে গলাচিপার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত চিকিৎসক ডাক্তার মেজবাহউদ্দিন বলেন, “আমার চিকিৎসাধীনে বাক প্রতিবন্ধী জসিম জমাদ্দার ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে চোট লেগেছে। একটি পা ভেঙেছে।”
প্রতিপক্ষ মাহবুব ও জাফরের কাছে মুঠোফোন জানতে চাইলে তাদের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পকিয়া বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা জামাল জানান, “গাছবনের কোন খাল বিট হয়নি যে যেখান থেকে পারে মাছ শিকার করে।” ইউপি সদস্য তাহির মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, “আমি শুনেছি। দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে মীমাংসার ব্যবস্থা করব।”
গলাচিপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত জিলন শিকদার বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে আহত প্রতিবন্ধী জসিম জমাদারের ভাই বশির জমাদ্দার থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানান।